গত শনিবার রাতে তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরের আশেপাশে আজাদি টাওয়ার এলাকায় ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা চালানো হয়। এই ঘটনাটি বিশ্বরাজনীতিতে একটি নতুন মোড় ঘোষণা করেছে। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে এই সংঘাতের প্রতিক্রিয়া ব্যাপক। অনেকেই উদ্বিগ্ন যে, এই সংঘাতের প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে, যা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
ইরানের টিকে থাকার ক্ষমতা পরীক্ষা চলছে, কিন্তু মার্কিন নেতৃত্বের দুর্বলতা এবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী আধিপত্য আর পূর্বের মতো এককভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় না। রাশিয়া, চীন, ভারতসহ অন্যান্য শক্তিশালী দেশরা এখন মার্কিন নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করছে। বিশেষ করে রাশিয়ার জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা ভবিষ্যতের কৌশলগত ভারসাম্য নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা বিশ্লেষণ করছে।
বিশ্বরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পতনের কথা এখনো কল্পনাপ্রসূত, তবে এর প্রভাবশালী অবস্থান চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে অবস্থান অর্জন করেছিল, তা ছিল বিশেষ ঐতিহাসিক পরিস্থিতির ফসল। পশ্চিম ইউরোপের যুদ্ধে বিধ্বস্ত অবস্থা, চীনের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং সোভিয়েত রাশিয়ার বিচ্ছিন্নতা এই অবস্থানকে সুবিধাজনক করেছিল। কিন্তু আজকালের বিশ্বে কোনো দেশই মার্কিন একক আধিপত্য মেনে নিতে রাজি নেই।
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের কেন্দ্রে একটি পরস্পরবিরোধী চিত্র দেখা যায়। ইসরায়েলি নেতৃত্ব তাদের লক্ষ্য অর্জনে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়েছে, কিন্তু ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা মার্কিন প্রশাসনকে বিস্মিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মিত্র দেশ এ সংঘাতের সম্ভাব্য পরিণতির কথা উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে এই সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাবের কথা আলোচিত হচ্ছে।
এই সংঘাতের ফলাফল কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইরান আর কত দিন এই সামরিক চাপ সইতে পারবে, মিত্রদের কাছ থেকে কেমন সহায়তা পাবে এবং মার্কিন প্রশাসন কত দিন এই অভিযান চালিয়ে যাবে, তা এখনো অস্পষ্ট। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, বিশ্বরাজনীতিতে একটি নতুন যুগ শুরু হয়েছে, যেখানে শক্তির ভারসাম্য আর পূর্বের মতো এককভাবে নির্ধারিত হবে না।
Source: Prothom Alo
মন্তব্য করুন