আন্তর্জাতিক রাজনীতির সবচেয়ে উত্তপ্ত অঞ্চল হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ উদ্যোগে ইরানের বিরুদ্ধে অব্যাহত সামরিক অভিযানের ফলে সেখানে ক্রমেই ঘোলাটে হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে এসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের নেতারা ইরানের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের হত্যা করার পরিকল্পনা আরও তীব্র করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের গোয়েন্দাবিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল খতিবসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার নির্মম হত্যাকাণ্ড এর বড় প্রমাণ। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ স্বীকার করেছেন যে তাঁরা সামরিক বাহিনীকে যেকোনো জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তাকে হত্যার অনুমতি দিয়েছেন।
প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে ইরান। সর্বশেষ গতকাল বুধবার ইরান ইসরায়েলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ইরান ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর যৌথ হামলায় দেশটির ৩৪টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মধ্য ইসরায়েলের রামাত গান এলাকায় একটি বেসামরিক আবাসনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক দম্পতি নিহত হন। এছাড়া হামলায় আহত হয়ে একদিনে ১৯২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। ইরানের এই পাল্টা হামলার ফলে বন্ধ হয়ে গেছে ইসরায়েলের রেল যোগাযোগ।
যুদ্ধের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলেও। গতকাল ইরানের উপকূলীয় সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার খবর প্রকাশ করেছে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। এর জবাবে তেহরান সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে। তবে কাতার ইতোমধ্যেই ইরানি গ্যাসক্ষেত্রে হামলার নিন্দা জানিয়েছে। এদিকে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে একটি ১৫ তলা ভবন। হামলায় নিহত হয়েছেন হিজবুল্লাহ ঘনিষ্ঠ আল-মানার টিভির রাজনৈতিক বিভাগের প্রধানসহ দশজন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে তাঁর অবস্থানও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ট্রাম্প ন্যাটো সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যে তাঁরা যুদ্ধে সহযোগিতা করছে না। তবে ন্যাটোর সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি লর্ড পিটার রিকেটস মন্তব্য করেছেন যে ট্রাম্প ন্যাটোকে ভুলভাবে বিচার করছেন। তাঁর মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের একার যুদ্ধ এবং ন্যাটোর চুক্তিতে এমন কিছুই নেই যা তাঁদেরকে অনুসরণ করতে বাধ্য করে।
ইরান যুদ্ধবিরোধী মত জোরালো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রেও। ট্রাম্প প্রশাসনের জাতীয় সন্ত্রাসবাদবিরোধী কেন্দ্রের পরিচালক জো কেন্ট পদত্যাগ করে বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো হুমকি ছিল না এবং ইসরায়েলের চাপেই এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে ট্রাম্পের সমর্থক ক্যালিফোর্নিয়ার কেরি প্রিজিন বলেছেন, তিনি তাঁর প্রেসিডেন্টকে চিনতে পারছেন না এবং মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে, যেখানে যুদ্ধবিরতি অথবা সামরিক বিজয় কোনোটাই সহজ নয়।
মন্তব্য করুন