মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হর্মুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নতুন নির্দেশনায় বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েল বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনও সম্পর্ক না থাকলে সেই সব জাহাজকে হর্মুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে প্রশ্ন উঠছে, এমন কোনও জাহাজ আদৌ এই পথ ব্যবহার করবে কিনা তা নিয়ে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানানি জানিয়েছেন, দেশটির সরকার যেকোনও ধরনের সামরিক সংঘাত এড়াতে চায় এবং আন্তর্জাতিক জলপথে শান্তিপূর্ণভাবে চলাচলকে সমর্থন করে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেননি যে, ইরান নিজেই এই পদক্ষেপের মাধ্যমে জাহাজ চলাচলে কোনও বিধিনিষেধ আরোপ করছে কিনা।
হর্মুজ প্রণালী হলো পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের মধ্যে সংযোগকারী একটি সংকীর্ণ জলপথ, যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তেল পরিবহন করা হয়। এই অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিভিন্ন দেশের জাহাজ এই পথ ব্যবহার করলেও সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরান বারবার জানিয়েছে, তারা তাদের জলসীমায় অন্য কোনও দেশের জাহাজকে বাধা দিতে চায় না, তবে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে তারা প্রস্তুত।
ইরানের এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি মূলত ইরানের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করার একটি পদক্ষেপ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ইরানের বিরোধিতা দীর্ঘদিনের। ইরান বারবার অভিযোগ করেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অবরোধ ও চাপ প্রয়োগ করছে। এই পরিস্থিতিতে ইরান নিজেদের জলসীমায় জাহাজ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে চাইছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান যদি প্রকৃত অর্থেই এই নিয়ম কার্যকর করে, তাহলে তা আন্তর্জাতিক জলপথে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।
এদিকে, ইরানের ঘোষণার পর বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা ইরানের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক জলপথে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর এ বিষয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেনি। তবে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা ইরানের এই ঘোষণাকে গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
ইরানের এই ঘোষণার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা স্থিতিশীল হলেও ব্যবসায়ীরা এখনও সতর্ক রয়েছেন। কারণ, হর্মুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল অনেক দেশই এখনও এই অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান যদি নিজেদের ঘোষণা অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তাহলে তা বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচলের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে একই সঙ্গে তারা বলছেন, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বড় ধরনের অন্তরায় হিসেবে কাজ করতে পারে।
মন্তব্য করুন