ইরান ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে যোগ দিতে চাইলে ইউরোপীয় নেতাদের ভোটারদের রোষের মুখে পড়তে হবে। আবার একইসঙ্গে ইরান যেসব জাহাজ অবরোধ করেছে সেগুলো পুনরায় চালু করতে এবং শক্তির সংকট প্রশমনে কোনো পদক্ষেপ না নিলেও দেশে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিতে পারে।
বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতিতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় নেতারা যেন এক দোলাচলে রয়েছেন। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি ও চাপের মুখে তাঁরা পড়েছেন, আরেকদিকে নিজ দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে তাঁদের ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার পর থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো এক কঠিন অবস্থানে রয়েছেন। ইরানিরা যে জাহাজগুলো অবরোধ করেছে, তা পুনরায় চালু করতে হলে ইউরোপকে হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে, নয়তো নিজস্ব উদ্যোগে সমাধান খুঁজতে হবে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া ইউরোপীয় নেতাদের জন্য রাজনৈতিকভাবে বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ অধিকাংশ ইউরোপীয় দেশের জনগণই যুদ্ধের বিরোধী।
অন্যদিকে, ইরানের অবরোধের কারণে ইউরোপের শক্তির সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় নেতাদের উপর চাপ বেড়েছে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধান খুঁজে বের করার জন্য। কিন্তু ইরানও যে কোনো ধরনের আলোচনায় রাজি হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
এই দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থায় ইউরোপীয় নেতাদের জন্য সবচেয়ে ভালো সমাধান হতে পারে নিজেদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা এবং একটা স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ করা। একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটানো যাবে না, আবার অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতিও যেন না ঘটে তা নিশ্চিত করতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা যদি এই দুই মহাশক্তির মাঝখানে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে পারেন, তবেই তাঁরা এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে পেতে পারেন।
তবে, এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। কারণ ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই নিজ নিজ অবস্থানে অনড়। ইউরোপীয় নেতাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে নিজেদের স্বার্থরক্ষা করা এবং একইসঙ্গে যুদ্ধের সম্ভাবনা এড়ানো। এজন্য তাঁদেরকে কূটনৈতিক দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।
মন্তব্য করুন