মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সংকটের কালো মেঘ আবারও ঘনিয়ে পড়েছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়ছে, যা বিশ্বব্যাপী তৎপরতা জাগিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে আমেরিকার প্রবাসী বাংলাদেশীরা এই সংঘর্ষের সম্ভাব্য প্রভাবের কথা চিন্তা করছেন।
শনিবার রাতে ইরান থেকে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে হামলা প্রতিরোধ করছে। তেল আবিবের শিল্পাঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য সতর্ক করে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর জেট ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে আকাশে ধ্বংস করছে।
ইরানের হামলার প্রত্যাশায় বাহরাইনে বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বাহরাইন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা ইরানের হামলার পর থেকে ১২৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২০৩টি ড্রোন প্রতিহত করেছে। এসব হামলায় বাহরাইনে দুজন এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে ২৪ জন নিহত হয়েছে বলে জানা যায়।
ইরানও প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টা করছে। তারা ইরাক ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন ঘাঁটিগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলায় ইরানকে রাশিয়া ড্রোন সরবরাহ করছে বলে ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন।
এই সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে আমেরিকার প্রবাসী বাংলাদেশীরা উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে নিউ ইয়র্কের প্রবাসী সম্প্রদায়ের লোকেরা এই সংঘর্ষের সম্ভাব্য প্রভাবের কথা চিন্তা করছেন। অনেকেই বিশ্বাস করেন, এই সংঘর্ষের ফলে পেট্রোলিয়ামের দাম বাড়তে পারে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘর্ষের ফলাফল মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইরানের সাথে মার্কিন ও ইসরায়েলের সম্পর্কের উপর এই সংঘর্ষের প্রভাব থাকবে বলে তারা মনে করেন।
এই সংঘর্ষের ফলে বিশ্বব্যাপী তৎপরতা বেড়ে গেছে। জাতিসংঘের সাধারণ সম্পাদক এই সংঘর্ষের অবিলম্ব সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন, এই সংঘর্ষের সমাধান ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি অসম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন