মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব। ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, ইরানের গুপ্তচরবৃত্তির দায়িত্বে থাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে ইরান পাল্টা প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই ইরান ছেড়ে চলে যাবে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুপ্তচরবৃত্তির দায়িত্বে থাকা ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হত্যার ঘটনা ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এই হত্যাকাণ্ডকে ‘দুঃসাহসিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি প্রতিশোধ গ্রহণের অঙ্গীকার করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ বলেছেন, ‘ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের জবাব দেওয়া হবে এবং প্রতিশোধ নেওয়া হবে।’
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ঘোষণায় আন্তর্জাতিক মহল উদ্বিগ্ন। সোমবার এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই ইরান থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেবে। কারণ ইরান নিজেই আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী নয়।’ ট্রাম্পের এই মন্তব্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে।
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান এই সংঘাতের প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক আরও খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান এই বিরোধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। কারণ ইরান ইতিমধ্যেই সিরিয়া, লেবানন ও ইয়েমেনে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলও নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ফলে উভয় দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমিত করতে সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসতে হবে। সামরিক সংঘাত কোনো সমাধান নয়।’ অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নও ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত প্রশমিত করতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে।
এই ঘটনার ফলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অর্থনীতি তেলের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব দেশটির অর্থনীতিতে পড়তে পারে। এছাড়া বাংলাদেশের অভিবাসন ও শ্রমবাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
মন্তব্য করুন