ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দাবি, ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোন মোকাবিলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সহযোগিতা করছে দেশটির প্রায় ২৫০ জন বিশেষজ্ঞ। এর মধ্যে অন্তত ২০১ জন ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থান করছেন বলে জানান তিনি। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে শাহেদ ড্রোন প্রতিরোধে দীর্ঘদিন ধরে অভিজ্ঞতা অর্জনের ফলে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন অনেক বেশি কার্যকর হয়ে উঠেছে। জেলেনস্কি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, ইউক্রেনের বিশেষজ্ঞরা শাহেদ ড্রোন প্রতিহত করার কৌশল সম্পর্কে সম্যক অবগত। তারা কেবল পরামর্শ দিচ্ছেন না, বরং সরাসরি ড্রোন প্রতিরোধেও অংশ নিচ্ছেন।
জেলেনস্কি আরও জানান, ইতিমধ্যেই সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েতে ইউক্রেনের বিশেষজ্ঞ দল মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও আরও ৪৪ জন বিশেষজ্ঞ প্রস্তুত রয়েছেন যাদেরকে শীঘ্রই পাঠানো হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেননি যে, ইউক্রেনের বিশেষজ্ঞরা কেবল পরামর্শ দিচ্ছেন নাকি সরাসরি ড্রোন প্রতিরোধে অংশগ্রহণ করছেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি বলেন যে ইউক্রেনের বিশেষজ্ঞরা সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে গিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেন। তারা রাডার স্থাপন এবং শব্দ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা পরিচালনা করতে সক্ষম, যার মাধ্যমে তারা নির্ভুলভাবে ড্রোন শনাক্ত করতে পারেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের বিশেষজ্ঞরা এই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে তারা নিশ্চিতভাবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে পারবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জানান, দেশটি প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার ড্রোন তৈরি করতে সক্ষম। তবে দেশটির নিজস্ব চাহিদা প্রায় এক হাজার ড্রোন। বাকি এক হাজার ড্রোন অন্যান্য মিত্র দেশগুলোকে সরবরাহ করা যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন আরও বেশি ড্রোন উৎপাদন করতে পারে, তবে এর জন্য প্রয়োজন আরও বিনিয়োগ। তিনি বলেন, শুধুমাত্র ড্রোন ক্রয় করলেই প্রতিরক্ষা নিশ্চিত হয় না, বরং এর জন্য একটি সামগ্রিক ব্যবস্থা প্রয়োজন। তিনি ইউক্রেনের তৈরি একটি ট্র্যাকিং সফটওয়্যারও প্রদর্শন করেন, যার মাধ্যমে প্রতিটি শাহেদ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ সনাক্ত করা যায়। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
তিনি বলেন, ইউক্রেনের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন চুক্তি এখনও কার্যকর রয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ইউক্রেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ড্রোন সরবরাহ করবে। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন অন্যান্য দেশের সঙ্গেও এমন চুক্তি করতে প্রস্তুত রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে একটি বিমান হামলা অভিযান চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে ও মার্কিন বাহিনীর ওপর হাজার হাজার শাহেদ ড্রোন নিক্ষেপ করে। এছাড়াও রাশিয়ার তৈরি শাহেদ ড্রোনগুলোকে প্রতিহত করার জন্য ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কার্যকর হয়ে উঠেছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় ৯০ শতাংশ শাহেদ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম বলে জানান জেলেনস্কি।
মন্তব্য করুন