ইকুয়েডরের এক প্রত্যন্ত গ্রামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইকুয়েডরের সরকার এমন একটি ঘোষণা দিয়েছিল যে তারা সেখানে একটি সশস্ত্র দলের প্রশিক্ষণ শিবির ধ্বংস করেছে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আসলে এটি ছিল একটি দুগ্ধ খামার। মার্কিন সামরিক বাহিনী ও ইকুয়েডরের কর্তৃপক্ষের এই ঘটনায় দাবি ছিল যে তারা একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ঘাঁটি ধ্বংস করেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, গত মাসে যখন বিমান হামলা চালানো হয়, তখন সেখানে কোনও সশস্ত্র দলের উপস্থিতি ছিল না। তারা বলেন, হামলার সময় খামারে গাভী পালন করা হচ্ছিল এবং দুধ সংগ্রহের কাজ চলছিল। মার্কিন সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে ইকুয়েডরের সরকার জানিয়েছিল যে তারা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘লস চোনেরোস’-এর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই সময় সেখানে কোনও সশস্ত্র লোকজন ছিল না।
স্থানীয় নেতারা আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা যখন গ্রামবাসীদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন, তখন তারা স্পষ্টতই ভুল তথ্য প্রচার করেন। তাদের দাবি, মার্কিন সামরিক বাহিনী ও ইকুয়েডরের সরকার আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরার জন্য এমন একটি ঘটনা সাজিয়েছিল। ইকুয়েডরের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে যে তাদের অভিযান ছিল সম্পূর্ণ বৈধ।
এদিকে, মার্কিন সামরিক সূত্রের দাবি ছিল যে তারা স্যাটেলাইট চিত্র ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই হামলা চালিয়েছে। তবে স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে একটি দুগ্ধ খামারকে তারা সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ শিবির বলে মনে করলেন। অনেকেই মনে করছেন, এটি আসলে সরকারি প্রচার ও বৈশ্বিক রাজনীতির অংশ হতে পারে।
এই ঘটনার পর ইকুয়েডরের গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনেছেন এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। অনেকেই বলছেন, সরকারের উচিত সত্য উদঘাটন করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এই ঘটনার জের ধরে সমালোচনার মুখে পড়েছে।
মন্তব্য করুন