ইউক্রেনের সামরিক শক্তির নতুন প্রতীক হয়ে উঠেছে তাদের উদ্ভাবিত নৌ-ড্রোন। সম্প্রতি পর্তুগাল উপকূলে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সামরিক মহড়ায় ইউক্রেনের ‘লাল দল’ ন্যাটোর ‘নীল দল’কে পাঁচটি নৌ-ড্রোন সেনারিয়োতেই পরাজিত করেছে। এই মহড়ায় ইউক্রেনের নেতৃত্বাধীন দলটি ন্যাটোর শক্তিশালী নৌবহরের বিরুদ্ধে ড্রোন দিয়ে বন্দর ও যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনীয় ‘লাল দল’ তাদের উদ্ভাবিত ম্যাগুরা ভি৭ ড্রোন ব্যবহার করে প্রতিটি দৃশ্যকল্পে বিজয় লাভ করেছে।
২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো চালু হওয়া ম্যাগুরা ড্রোন বোটটি অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন এবং এর মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। ইউক্রেনের এই ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার ক্রিমিয়া উপদ্বীপের কাছে অবস্থিত রুশ নৌঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজগুলিকে ধ্বংস করা হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এই মহড়ায় অংশ নেওয়া ন্যাটোর সদস্য দেশগুলিও স্বীকার করেছে যে ইউক্রেনের ড্রোন প্রযুক্তি পূর্বে ভাবা চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।
পর্তুগাল উপকূলে অনুষ্ঠিত এই মহড়াটি ছিল ন্যাটোর বার্ষিক ‘REPMUS/Dynamic Messenger’ নামের সামরিক মহড়ার অংশ, যেখানে বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনী তাদের সামুদ্রিক ড্রোন প্রযুক্তির পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। ইউক্রেনের ড্রোনগুলি ছিল মূলত ‘অ্যাসিমেট্রিক যুদ্ধাস্ত্র’, যা রাশিয়ার বিশাল নৌবহরের বিরুদ্ধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছে। যুদ্ধ চলাকালীন ইউক্রেন তাদের ড্রোনগুলি ব্যবহার করে শুধুমাত্র রুশ যুদ্ধজাহাজ নয়, সমুদ্র তলের তেল স্থাপনা ও সেতুতেও ক্ষতিসাধন করেছে।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের ‘লাল দল’ মোট পাঁচটি সেনারিয়োতে ন্যাটোর ‘নীল দল’কে পরাজিত করেছে। ম্যাগুরা ভি৭ ড্রোনগুলি শুধুমাত্র নজরদারি নয়, যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। একটি সেনারিয়োতে এই ড্রোনগুলি ব্যবহার করে ন্যাটোর একটি ফ্রিগেটকে ধ্বংস করার মতো দৃশ্যও মহড়ায় তুলে ধরা হয়। ইউক্রেনের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে প্রথাগত সামরিক শক্তির তুলনায় উদ্ভাবনী প্রযুক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে কতটা শক্তিশালী হতে পারে।
ন্যাটোর মুখপাত্ররা স্বীকার করেছেন যে ইউক্রেনের ড্রোন প্রযুক্তির বিপদ তারা পূর্বে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারেননি। এই মহড়ার মাধ্যমে ন্যাটো দেশগুলি বুঝতে পেরেছে যে ভবিষ্যতের সামরিক সংঘর্ষে ড্রোন ও রোবোটিক্সের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ইউক্রেনের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে ন্যাটো নিজেদের নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে। একই সঙ্গে তারা শত্রুপক্ষের ড্রোন প্রতিহত করার কৌশলও আয়ত্ত করছে।
ইউক্রেনের এই অভাবনীয় সাফল্য যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। দেশটি এখন আরও শক্তিশালী ও উন্নত ড্রোন তৈরির দিকে মনোনিবেশ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বৃদ্ধি পাবে এবং এটি সামরিক কৌশলের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। ইউক্রেনের এই উদ্ভাবন শুধু তাদের নিজেদের জন্য নয়, গোটা বিশ্বের সামরিক কৌশলবিদদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
মন্তব্য করুন