ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানকে ইউক্রেনকে ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ প্রদানে বাধা দেওয়া বন্ধ করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। তবে এই বিষয়টি এখন হাঙ্গেরির আসন্ন ১২ এপ্রিলের নির্বাচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। অরবান ইউক্রেনকে এই ঋণ না দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশগুলির কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে।
হাঙ্গেরির সরকারি অবস্থান অনুসারে, ইউক্রেনকে এই ঋণ প্রদান ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রগুলির কাছে অযৌক্তিক বলে মনে হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি আসলে অরবানের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার একটি কৌশল মাত্র। নির্বাচনের আগে নিজের সমর্থকদের মন জয় করতে এই ইস্যুকে তিনি কাজে লাগাতে চাইছেন। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনকে এই ঋণ প্রদানের মাধ্যমে দেশটির যুদ্ধকালীন অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সাহায্য করতে চায়।
এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা অরবানকে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করার জন্য বারংবার অনুরোধ করলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন আরও প্রকট হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অরবান এই ইস্যুকে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্যবহার করছেন, যার ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঐক্য আরো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের কর্মকর্তারা এই ঋণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছেন যে, এটি ইউক্রেনের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে এবং যুদ্ধের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবে হাঙ্গেরির সরকার এই ঋণ প্রদানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থন প্রকাশ করছে না বলে সমালোচিত হচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইতিমধ্যেই হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য নেতাদের কাছ থেকে আরও সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আগে অরবানের অবস্থান আরো কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ তিনি নিজের রাজনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে চাইছেন। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনকে অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য করতে চাইলেও হাঙ্গেরির বিরোধিতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব আরো তীব্র হয়ে উঠতে পারে।
মন্তব্য করুন