মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সরবরাহ করে আসছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমলে সেই সামগ্রীগুলো ব্যবহারের উপযোগিতা হারিয়ে ফেলতে শুরু করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক অভ্যন্তরীণ স্মারক থেকে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে আফ্রিকার জন্য প্রস্তুতকৃত গর্ভনিরোধক সামগ্রীগুলোকে অন্য কোনো উপায়ে ব্যবহারের সুযোগ ছিল। কিন্তু তারা সেই সুযোগ কাজে লাগায়নি, ফলে সেই সামগ্রীগুলো এখন অকেজো হয়ে ধুলোয় মিশে যাচ্ছে।
সমালোচকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত আফ্রিকার গর্ভবতী নারীদের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। কারণ আফ্রিকার অনেক দেশেই জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর অভাব রয়েছে। এসব সামগ্রী না পেলে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ এবং সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। ইউএসএআইডির তৎকালীন কর্মকর্তারা চেষ্টা করেছিলেন এই সামগ্রীগুলো অন্য অঞ্চলে সরবরাহ করার, কিন্তু প্রশাসনের অযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
স্মারক অনুসারে, ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে আফ্রিকার জন্য প্রস্তুতকৃত প্রায় তিন লাখ প্যাকেট জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ছিল। এর মধ্যে অনেকগুলোই ইতোমধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আফ্রিকার স্বাস্থ্যখাতে যে পরিমাণ বৈদেশিক সাহায্য আসে তার একটা বিরাট অংশই আসে ইউএসএআইডির মাধ্যমে। তাই এই সামগ্রীগুলোর অপচয় শুধু আফ্রিকার স্বাস্থ্যখাতেই নয়, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন কর্মসূচিতেও বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, তারা এই বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছেন। তাদের যুক্তি হলো, আফ্রিকার দেশগুলোতে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর ব্যবহার নিয়ে স্থানীয় সরকারগুলোর মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ফলে সেই সামগ্রীগুলো সরবরাহ করলে তা কার্যকর হবে না। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এই যুক্তির সঙ্গে একমত নন। তাদের মতে, ইউএসএআইডির মতো সংস্থাগুলো আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা অনুযায়ী সামগ্রী সরবরাহ করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট অভিজ্ঞ। তাই স্থানীয় সরকারগুলোর মতবিরোধ থাকলেও সেই সামগ্রীগুলো অন্য কোনো উপায়ে ব্যবহারের ব্যবস্থা করা উচিত ছিল।
এই ঘটনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সাহায্যনীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অনেকেই মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত আফ্রিকার মানুষদের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আবার কেউ কেউ বলছেন, এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী প্রশাসন যেন এমন ভুল না করে সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। কারণ বৈদেশিক সাহায্য এবং উন্নয়ন কর্মসূচির ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় দায়িত্বশীলতা এবং দূরদর্শিতার পরিচয় দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মন্তব্য করুন