আমেরিকার বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিমানযাত্রীদের নিরাপত্তা তল্লাশির সময়কাল নিয়ে রয়েছে বিরাট পার্থক্য। টেক্সাসের হিউস্টনের হবি বিমানবন্দরে কর্মরত টিএসএ কর্মীদের অনুপস্থিতির হার যেখানে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছে, সেখানে ছোট বিমানবন্দরগুলোতে পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক। এর পেছনে রয়েছে বহু স্তরের কারণ।
টিএসএ কর্মীদের বেতন না পাওয়া, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং পারিবারিক দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা এই সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ। অ্যাটলান্টার কর্মী নেতা অ্যারন বার্কারের মতে, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে কর্মীরা শহর থেকে অনেক দূরে বসবাস করতে বাধ্য হন। ফলে দৈনিক যাতায়াতের সময় এবং ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই কাজে যোগ দিতে পারছেন না।
বড় শহরের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীর চাপও অনেক বেশি। যেমন, আটলান্টার ডেল্টা এয়ারলাইন্সের কেন্দ্রস্থল হওয়ায় প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রীর আনাগোনা। ফলে নিরাপত্তা তল্লাশির লাইন দীর্ঘ হতে বাধ্য। অন্যদিকে ছোট বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীর সংখ্যা কম হওয়ায় কর্মীদের অনুপস্থিতিতে তেমন প্রভাব পড়ে না।
এছাড়া মার্কিন সরকারের আংশিক স্থগিতাদেশের কারণে টিএসএ কর্মীদের বেতন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই চাইল্ডকেয়ার বা গ্যাসের খরচ জোগাড় করতে পারছেন না। ফলে অনেক কর্মী কাজে যোগ দিতে অপারগ হচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকে অবৈধ অভিবাসীদের দ্বারা টিএসএ কর্মীদের সহায়তা করার চেষ্টা হলেও কর্মীদের সংগঠনগুলো তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় বিমানবন্দরগুলোর কর্মীদের কর্মবিরতি বৃদ্ধির পেছনে স্থানীয় জীবনযাত্রার ব্যয় এবং যাতায়াতের অসুবিধাই প্রধান ভূমিকা রাখছে। ছোট বিমানবন্দরগুলোর কর্মীরা স্থানীয় জনগণের সহায়তা পাওয়ায় তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাছাড়া বড় বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীচাপ বেশি হওয়ার কারণে কর্মীদের অনুপস্থিতিতে লাইন দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং তা সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।
আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সংস্থা ইউএস ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, মার্চ ও এপ্রিল মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ বিমানভ্রমণ করবেন। ফলে ব্যস্ত সময়ে নিরাপত্তা লাইনের দৈর্ঘ্য আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। যাত্রীদের উচিত ব্যস্ত দিনগুলোতে আগে থেকেই বিমানবন্দরে পৌঁছানো এবং ধৈর্য ধারণ করা।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নীতিও এই সমস্যায় প্রভাব ফেলছে। কিছু বিমানবন্দর যেমন সান ফ্রান্সিসকো ইন্টারন্যাশনাল এবং অরল্যান্ডো সানফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল ব্যক্তিগত ঠিকাদার নিয়োগ করে থাকেন, যা কর্মী সংকট কিছুটা হলেও কমাতে সাহায্য করে। তবে বেশিরভাগ কর্মীই জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করতে না পেরে পার্শ্ববর্তী আয়মূলক কাজ যেমন রাইডশেয়ারিং বা খুচরা বিক্রয়কর্মে নিয়োজিত হচ্ছেন।
টিএসএ কর্মীদের সংগঠনের নেতারা জানাচ্ছেন, বিভিন্ন বিমানবন্দরে কর্মীদের ছুটির নীতির ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়েছে। কিছু বিমানবন্দরে কর্মীদের ছুটি নিতে অত্যন্ত কঠোর নিয়ম অনুসরণ করা হয়, আবার কিছু জায়গায় তুলনামূলক উদার নীতি অনুসরণ করা হয়। ফলে কর্মীদের মধ্যে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেক কর্মীই অবসর গ্রহণের কাছাকাছি থাকায় চাকরি ছেড়ে নতুন কোনো কাজে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকছেন।
এদিকে কর্মীদের বেতন না পাওয়ার কারণে আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও বেশি কর্মী অনুপস্থিত হতে পারেন। ইউএস ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ভ্রমণ শিল্পে ভোক্তাদের আস্থার অভাব দেখা দিয়েছে, যা বিমান সংস্থাগুলোর জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। টিএসএ কর্মী কার্লোস রড্রিগেজ বলেন, তাঁরা দেশের স্বাধীনতা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের নিরাপত্তা রক্ষায় দিনরাত কাজ করছেন, কিন্তু নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন