বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আইনি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম হারবার্ট স্মিথ ফ্রিহিলস ক্রেমার (এইচএসএফ ক্রেমার) এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে আইনি পরিষেবাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের দুটি আইন প্রতিষ্ঠান একত্রিত হয়ে গঠিত হয় এই নতুন জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটি, যার অধীনে রয়েছে প্রায় ২,৭০০ আইনজীবী এবং বার্ষিক আয় দুই বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী জাস্টিন ডি অ্যাগোস্টিনো বিশ্বাস করেন, এআই প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমেই আইনি পরিষেবার দ্রুততা, গুণগত মান এবং ব্যয় সাশ্রয় সম্ভব হবে।
এই অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইলোনা লগভিনোভা, যিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রথম বৈশ্বিক প্রধান এআই কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। এর আগে তিনি মাস্টারকার্ড এবং ম্যাককিনসে অ্যান্ড কোম্পানিতে কাজ করেছেন। তার প্রধান দায়িত্ব হলো আইনজীবীদের কাজের পদ্ধতিতে এআইকে কার্যকরভাবে একীভূত করা। তিনি বলেন, “আইনি পেশা কয়েক শতাব্দী ধরে একই রয়ে গেছে, কিন্তু এখন সেই সুযোগের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।” তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি এআই প্রযুক্তির বাস্তবায়নকে শুধু পরীক্ষামূলক নয়, একটি বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।
এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে আইনি কাজকে দ্রুততর এবং ব্যয় সাশ্রয়ী করার প্রচেষ্টা চলছে। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি লেগোরা নামক একটি দ্রুত বর্ধনশীল আইনি প্রযুক্তি স্টার্টআপকে প্রতিষ্ঠান জুড়ে ব্যবহারের জন্য চালু করেছে। লেগোরার সফটওয়্যার আইনজীবীদের নথিপত্র বিশ্লেষণ, চুক্তি তুলনা, মামলার আইনি গবেষণা এবং খসড়া তৈরির মতো পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলোকে স্বয়ংক্রিয় করতে সক্ষম। তবে শুধু সফটওয়্যারের ব্যবহারই যথেষ্ট নয়—এর কার্যকারিতা নির্ভর করছে আইনজীবীদের অভ্যস্ততা এবং ব্যবহারের ওপর।
এই সমস্যার সমাধানে লগভিনোভা তার দলকে নিয়ে একটি অভিনব পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ‘ফরোয়ার্ড-ডিপ্লয়েড লিগ্যাল ইঞ্জিনিয়ার’ নামে একটি দল গঠন করেছেন, যারা আইনজীবীদের পাশাপাশি কাজ করে তাদের দৈনন্দিন কাজের মধ্যে এআইকে সেভাবে একীভূত করবেন, যাতে তা কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হয়। এই পদ্ধতিটি পালান্টির এআই মডেলের আদলে গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে প্রযুক্তিবিদরা গ্রাহকদের সাথে সরাসরি কাজ করে সফটওয়্যারকে বাস্তব পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করেন।
লগভিনোভা মনে করেন, ক্লায়েন্টরা আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং মানসম্পন্ন পরিষেবা আশা করেন। তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এআই প্রযুক্তির প্রয়োগকে একটি ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টের মতো বিবেচনা করতে হবে। আমরা শুধু সফটওয়্যার কেনা নয়, বরং এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেছে নিচ্ছি যারা প্রতি মুহূর্তে উন্নত হচ্ছে।” তার দল প্রতিনিয়ত বাজার বিশ্লেষণ করে নতুন প্রযুক্তি এবং স্টার্টআপগুলোর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছে, যাতে প্রতিষ্ঠানটি সর্বদা এগিয়ে থাকতে পারে।
তবে এআই প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রকৃতির কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্কতার সাথে প্রযুক্তি নির্বাচন করছে। অনেক প্রতিষ্ঠানই এখনো বিভিন্ন সরঞ্জাম পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করছে এবং ভবিষ্যতে কোন প্রযুক্তি সেরা হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। লগভিনোভা বলেন, “এই কাজের জন্য কোনো পূর্বনির্ধারিত নির্দেশিকা নেই। তাই আমাদেরকে ক্রমাগত নতুন প্রযুক্তির সাথে মানিয়ে নিতে হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”
মন্তব্য করুন