মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলমান আংশিক সরকারি স্থবিরতা (শাটডাউন) মাঝে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে অভিবাসন ও শুল্ক কর্মকর্তাদের (আইসিই) টিএসএ কর্মীদের সহায়তায় নিয়োজিত করার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সীমান্ত বিষয়ক প্রধান টম হোম্যান জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই এই বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেছে। যদিও এখনও বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দরে আইসিই কর্মীদের মোতায়েনের বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা যাচ্ছে।
এই পদক্ষেপের ফলে টিএসএ কর্মীরা তাদের সাধারণ দায়িত্ব পালন করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে অভিবাসন বিষয়ক কর্মকর্তাদের বিমানবন্দরে উপস্থিতির কারণে অভিবাসন বিরোধী কর্মী এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছ থেকে সমালোচনার মুখেও পড়তে পারে প্রশাসন। এর আগেও সরকারি স্থবিরতার সময় আইসিই কর্মীদের অন্যান্য সরকারি দপ্তরে সহায়তার জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতে গিয়ে অভিবাসন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি কি আদৌ প্রয়োজনীয় ছিল, নাকি এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে—এ বিষয়টি নিয়ে বিস্তর আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও মজবুত করা এবং অনিয়ম রোধ করা।
তবে বিরোধীরা ইতোমধ্যেই এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক খেলা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা বলছেন, সরকারি স্থবিরতার সময় যখন সাধারণ নাগরিকেরা বিভিন্ন সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তখন অভিবাসন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক এবং জনগণের ক্ষোভকে আরও উসকে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ। এছাড়া অভিবাসন বিরোধী কর্মীরাও এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, বিমানবন্দরে আইসিই কর্মীদের উপস্থিতি অভিবাসী পরিবারগুলোকে আরও ভীত করে তুলবে।
এদিকে মার্কিন সরকারের কর্মকর্তারা অবশ্য জোর দিয়ে বলছেন যে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ছেদ পড়বে না এবং সাধারণ জনগণের জীবনে কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তারা আরও জানিয়েছেন যে, আইসিই কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হলেও তাদের মূল দায়িত্ব হবে অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়াদি পর্যবেক্ষণ করা। তবে এই ঘোষণার পরেও জনগণের মধ্যে উদ্বেগ রয়েই গেছে। বিশেষ করে যেসব পরিবার অভিবাসী সদস্য নিয়ে বসবাস করছেন, তাদের মনে এই পদক্ষেপ নিয়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
মন্তব্য করুন