যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের একটি আদালতে আগামী মঙ্গলবার শুরু হতে যাওয়া যৌন পাচারের মামলায় অ্যাবারক্রম্বি অ্যান্ড ফিচের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাইকেল জেফ্রিসের বিরুদ্ধে তার আইনজীবীরা মানসিকভাবে অসুস্থ বলে দাবি করছেন। জেফ্রিসের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তার অ্যালঝেইমার্স এবং লিউ বডি ডিমেনশিয়া নামক নিউরোডিজেনারেটিভ রোগ রয়েছে। এছাড়া আগের এক দুর্ঘটনার কারণে তার মস্তিষ্কে স্থায়ী ক্ষতিও রয়ে গেছে। তাদের দাবি, এই অবস্থায় জেফ্রিস আদালতে বিচারের জন্য মানসিকভাবে অযোগ্য হয়ে পড়েছেন।
মাইকেল জেফ্রিস, যিনি এক সময় বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ব্র্যান্ড অ্যাবারক্রম্বি অ্যান্ড ফিচকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তার বিরুদ্ধে দোষী সাব্যস্ত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এমনকি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে বলে জানা গেছে। অভিযোগ অনুসারে, জেফ্রিস তার প্রভাব ও অর্থের অপব্যবহার করে তরুণ পুরুষ মডেলদের যৌন কর্মে বাধ্য করতেন। মামলায় তার সঙ্গী ম্যাথিউ স্মিথ এবং কর্মচারী জেমস জ্যাকবসনও অভিযুক্ত। তবে তিনজনই জামিনে রয়েছেন।
মাইকেল জেফ্রিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তিনি গত দুই দশকে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে আয়োজিত ড্রাগ ও যৌনতার অনুষ্ঠানে তরুণ মডেলদের যৌন কর্মে বাধ্য করতেন। অভিযোগ অনুসারে, ভুক্তভোগীরা ছিলেন অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল এবং তাদেরকে অ্যাবারক্রম্বির জন্য মডেল হওয়ার প্রলোভনে ফেলা হতো। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, এই ঘটনাগুলো ঘটেছিল ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে।
জেফ্রিসের আইনজীবীরা আদালতে জানিয়েছেন, তার মানসিক অবস্থা এতটাই খারাপ যে বিচারের সময় তিনি তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠছে তা স্বীকার করে ফেলতে পারেন। এমনকি আদালতে অনিয়ন্ত্রিত আচরণও করতে পারেন। অন্যদিকে প্রসিকিউশন দল দাবি করেছেন, মানসিক স্বাস্থ্য পুনর্বাসনের পর জেফ্রিসের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তারা আদালতে তার সুস্থতার প্রমাণ হিসেবে তার সঙ্গে তার সঙ্গী ম্যাথিউ স্মিথের মধ্যে হওয়া শতাধিক ফোন কথোপকথনের রেকর্ড উপস্থাপন করতে পারেন।
তিনজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধেই সর্বনিম্ন ১৫ বছরের এবং সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। জেফ্রিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার ভাগ্যে কী ঘটবে তা এখন দেখার বিষয়। তবে তার মানসিক অবস্থা বিচারের ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন