এই বছর বন্ধুদের বার্ষিক অস্কার পার্টিতে আমি এক অভিনব পরীক্ষা করলাম। নিজের ভোটের দায়িত্ব তুলে দিলাম অ্যানথ্রোপিকের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্লদকে। প্রথমে ক্লদ একটু টালমাটাল করে ফেললেও, পরে যখন সরাসরি বিজয়ীদের নাম জানতে চাইলাম, তখন সে দ্রুত সব বিভাগের জন্য নির্দিষ্ট করে বিজয়ীদের নাম দিয়ে দিল। আর সেই ভোটেই আমি পুরস্কারও জিতে নিলাম—একটি চকলেটের বাক্স আর গর্ব করার অধিকার!
কিন্তু এখানেই গল্পের শেষ নয়। ক্লদের কাছে অস্কারের সব বিভাগের বিজয়ীর নাম তুলে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল। কিন্তু সে ‘কাস্টিং’ বিভাগের বিজয়ীর নাম দিতে পারেনি—এটা নতুন একটি বিভাগ হওয়ায় হয়তো ক্লদের কাছে তথ্য ছিল না। আবার কোন কোন বিভাগে ক্লদ এমন সব বিজয়ীদের নাম দিয়েছে যাদেরকে সে বিভাগের জন্য মনোনীতই করা হয়নি। উপরের ছবিতে দেখুন ক্লদের ভুলগুলো। তাও, ক্লদের তৈরি ভোট অন্যদের ভোটের চেয়ে ভালো ফলাফল দিয়েছে।
এই ঘটনা আমাদের দেখিয়ে দিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শক্তি আর দুর্বলতার এক অদ্ভুত মিশ্রণ। কখনও কখনও এতটাই শক্তিশালী যে তা পুরস্কারও জিতে নিতে পারে, আবার কখনও নিজের অজান্তেই ভুল করে বসে। তবুও সেই ভুলগুলো এতটাই ক্ষুদ্র যে তা সামগ্রিক ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারেনি।
আমি যখন নিজের অভিজ্ঞতার কথা বললাম, তখন অনেকে অবাক হয়ে গেলেন। কেউ কেউ ভেবেছেন, আগামী বছর হয়তো আর কেউই নিজের মতো করে অস্কার ভোট দিতে যাবেন না—সবাই নিজেদের ভোটের দায়িত্ব দেবেন কোনও এআই মডেলের উপর। এটা আসলে প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরই একটা অংশ। আগামী বছরগুলোতে এ ধরনের ঘটনা আরও বেশি করে দেখা যাবে বলে আমার বিশ্বাস।
তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে—এআই নির্ভর ভোট তৈরি করতে গিয়ে অনেক সময়ই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন থাকতে পারে বা ভুল তথ্য চলে আসতে পারে। তাই সাবধানতার সাথে এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার করা উচিত। তবুও একটা বিষয় স্পষ্ট—প্রযুক্তির সাহায্যে সঠিক দিকনির্দেশনা পাওয়া সম্ভব হলেও, শেষমেশ মানুষকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
মন্তব্য করুন