হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের এক ডাক্তার তার স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত। গত বছর অর্থাৎ মার্চ ২০২৫ সালে পাহাড়ের ধারে টহলে নিয়ে স্ত্রীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। সেই ঘটনার এক বছর পরেই স্ত্রী আদালতে নিজের স্বামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন। আরিজ্ঞোনা কনিগ নামে ওই মহিলা আদালতে বলেন, তার স্বামী তাকে জোর করে ধরে নিয়ে গিয়ে বলেন, ‘আমি তোমার ওপর অত্যন্ত বিরক্ত। আবার ওখানে ফিরে যাও।’ এরপর তিনি তাকে ধাক্কা দিতে শুরু করেন।
কনিগ আরও জানান, তার স্বামী তাকে একটি সিরিঞ্জ দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেন। যখন তা ব্যর্থ হয়, তখন তিনি তাকে বারবার পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। আদালতে তিনি বলেন, ‘তিনি বলছিলেন, তুমি শেষ হয়ে যাবে। তোমাকে আর দরকার নেই। তুমি চলে যাও।’ এই ঘটনার পরেই আরিজ্ঞোনা কনিগ বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করেন। তার অভিযোগ ছিল, ঘটনার সময় তার স্বামী তাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন।
অভিযুক্ত ডাক্তার গ্যারহার্ট কনিগ একজন অভিজ্ঞ অ্যানেস্থেশিওলজিস্ট ছিলেন। তিনি হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের একটি মেডিক্যাল গ্রুপে কাজ করতেন। তার স্ত্রী তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগ অনুসারে, স্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে তারা হাওয়াই দ্বীপে ভ্রমণে ছিলেন। সেই সময় স্ত্রী তাকে একটি ক্লিফের ধারে একটি সেলফি তোলার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সেই অনুরোধই হয়ে ওঠে তার মৃত্যুর কারণ।
ঘটনার পর একজন নার্স সারাহ বাকসবম এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। তিনি আদালতে বলেন, আরিজ্ঞোনার মুখমণ্ডল রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। তার মাথায়ও প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হচ্ছিল। অন্যদিকে ডাক্তারের আইনজীবী যুক্তি দেখান যে, স্ত্রীই প্রথমে তাকে আক্রমণ করেছিলেন। তিনি বলেন, তার স্ত্রী তাকে একটি পাথর দিয়ে আঘাত করেন। তার প্রতিক্রিয়ায় ডাক্তার তাকে দুবার পাথর দিয়ে আঘাত করেন।
ডাক্তারের আইনজীবী আরও বলেন যে, ঘটনার পর ডাক্তার তার ১৯ বছর বয়সী ছেলেকে ফোন করে বলেন যে তিনি আত্মহত্যা করতে যাচ্ছেন। তিনি বলেন যে ডাক্তার তার ছেলেকে বলেছিলেন, ‘আমি ফিরে আসতে পারব না। আমি আরিজ্ঞোনাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু সে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।’ তবে প্রসিকিউশন দলের অভিযোগ, এটি আসলে ডাক্তারের নিজের মুখ ফাঁস করে দেওয়া। তারা বলেন যে ডাক্তার তার ছেলেকে প্রকৃত ঘটনা স্বীকার করেছেন।
এই মামলায় ডাক্তারের ছেলেও সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন। যদি ডাক্তার দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। ঘটনার পর থেকে ডাক্তারকে জেলেই রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর থেকেই বিচার প্রক্রিয়া চলছে।
মন্তব্য করুন