অতি সম্প্রতি উত্তর ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (UNC) প্রধান বাস্কেটবল কোচ হিসেবে পদত্যাগ করেছেন হুবার্ট ডেভিস। পাঁচ বছরের মেয়াদে তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ১২৫-৫৪ জয়-পরাজয়ের রেকর্ড নিয়ে, যার মধ্যে ছিল চারটি এনসিএএ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ, দুবার সুইট সিক্সটিনে উত্তীর্ণ হওয়া এবং একবার জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলা। ডেভিস তার বিদায় বার্তায় বলেছেন, “এই সুযোগটি সত্যিই আল্লাহর অনুগ্রহ। আমি প্রতিদিন তাঁর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। ছাত্রদের সাথে আমার সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতা আমাকে গর্বিত করে তুলেছে। আমি খুব শিগগিরই আবার কোচিংয়ে ফিরতে চাই।”
ঠিক এমন সময়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিলেন বস্টন সেল্টিক্সের প্রধান বাস্কেটবল অপারেশন কর্মকর্তা ব্র্যাড স্টিভেন্স। ইউনিসির প্রধান কোচ পদে তার নাম বিবেচনায় ছিল বলে জানা গিয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার রাতেই ইউনিসির কর্তৃপক্ষ যখন ডেভিসের পদত্যাগের খবর প্রচার করে, তখনই এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে। সিএসএস স্পোর্টসের সূত্র অনুযায়ী, স্টিভেন্স নিজেই ইউনিসিকে জানিয়ে দেন যে তিনি এই চাকরির জন্য আর আগ্রহী নন। যার ফলে ইউনিসির প্রশাসনের সামনে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে কোচিং নিয়োগের ব্যাপারে।
স্টিভেন্সের কলেজ কোচিং জীবন ছিল অত্যন্ত সফল। তিনি বাটলার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোচ হিসেবে মাত্র ১৬৬-৪৯ রেকর্ড গড়ে তুলেছিলেন। তার নেতৃত্বে দল পাঁচবার এনসিএএ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছিল, দুবার জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলেছিল, তিনবার হরাইজন লিগ টুর্নামেন্ট জয় করেছিল এবং চারবার নিয়মিত মৌসুমে লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তার এই অসাধারণ সাফল্যের কারণে ইউনিসি কর্তৃপক্ষ তাকে নিয়োগ দেওয়ার কথা ভাবছিলেন। কিন্তু স্টিভেন্সের নিজের ইচ্ছা না থাকায় তাদের সামনে এখন নতুন প্রার্থীদের দিকে তাকাতে হচ্ছে।
ইউনিসির প্রধান কোচ পদে বিবেচনার জন্য এখন যাদের নাম আসছে তাদের মধ্যে রয়েছেন অ্যারিজোনার প্রধান কোচ টমি লয়েড, মিশিগানের প্রধান কোচ ডাস্টি মে, আইওয়া স্টেটের প্রধান কোচ টিজি ওৎজেলবার্গার এবং শিকাগো বুলসের প্রধান কোচ বিলি ডোনোভান। উল্লেখ্য, ডোনোভান দুইবার ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করেছিলেন। সিএসএস স্পোর্টসের সূত্র অনুযায়ী, ডোনোভান ইউনিসির ডাকে সাড়া দিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে স্টিভেন্স নিজে ইউনিসির চাকরির প্রতি অনাগ্রহ প্রকাশ করলেও, ইউনিসির প্রশাসন দ্রুতই নতুন কোচ নিয়োগের জন্য উদ্যোগী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা এবং নতুন প্রার্থীদের সাথে কথা শুরু করার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে যেতে পারে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ইউনিসির সমর্থকদের মধ্যে যেমন উন্মাদনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে উদ্বেগও। কারণ দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং প্রত্যাশার তুলনায় নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য করুন