বিশ্ববিখ্যাত টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘বাফি দি ভ্যাম্পায়ার স্লেয়ারের’ অন্যতম প্রধান অভিনেতা নিকোলাস ব্রেন্ডনের মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে গেছে তাঁর ভক্তসমাজ। তাঁর পরিবার শুক্রবার রাতে ইনস্টাগ্রামের একটি পোস্টে জানিয়েছে যে, ৫৪ বছর বয়সে ঘুমন্ত অবস্থায় প্রাকৃতিক কারণেই তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত ওই পোস্টে লেখা হয়, ‘আমাদের পরিবারের সদস্যরা সবাই জানেন যে নিকি তাঁর অভিনয় জীবনের জন্য পরিচিত ছিলেন এবং কালক্রমে তিনি তাঁর শিল্পকলা ও চিত্রকলার মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি চিত্রশিল্পের প্রতি গভীর অনুরাগ গড়ে তোলেন। তাঁর মধ্যে ছিল প্রচণ্ড উদ্যম, সংবেদনশীলতা এবং সৃষ্টির এক অন্তহীন তাগিদ।’
নিকোলাস ব্রেন্ডনের জন্ম হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে ১৯৭১ সালের ১২ এপ্রিল। অভিনয় জীবনে প্রবেশের পূর্বে তিনি একজন পেশাদার বেসবল খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু তখন তাঁর কথা বলায় জড়তা অর্থাৎ স্পিচ ডিসঅর্ডারের সমস্যা থাকায় তিনি অভিনয়কে জীবিকা হিসেবে বেছে নেন। পরবর্তীকালে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টাটারিং ফাউন্ডেশনের একজন মুখপাত্র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
১৯৯৭ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে নিকোলাস ব্রেন্ডন অভিনয় জীবনের সেরা সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘বাফি দি ভ্যাম্পায়ার স্লেয়ারে’ এক্সান্ডার হ্যারিস চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন। তাঁর অভিনয় জীবনের সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য কাজ ছিল এই ধারাবাহিক। দীর্ঘ সাতটি মরশুম ধরে তিনি এই চরিত্রে অভিনয় করেন। ধারাবাহিকটির সমাপ্তির পর তিনি অ্যান্থনি বোর্দেইনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত টিভি ধারাবাহিক ‘কিচেন কনফিডেনশিয়ালে’ মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অতিথি চরিত্রেও উপস্থিত হন। যেমন, ‘ক্রিমিনাল মাইন্ডস’ ধারাবাহিকে ২০০৭ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত নিয়মিত উপস্থিতি এবং ‘প্রাইভেট প্র্যাকটিস’, ‘ফেকিং ইট’ ধারাবাহিকেও তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে স্থান করে নিয়েছিল।
তবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ছিল বেশ জটিল। তিনি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন, যেমন ‘ডেমন আইল্যান্ড’ (২০০২) এবং ‘আনহোলি’ (২০০৭)। তাঁর জীবনের শেষ দিকের কয়েক বছরে তিনি স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখীন হন। ২০১০ সাল থেকে তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হন বিভিন্ন অভিযোগে, যার মধ্যে ছিল গার্হস্থ্য হিংসা, চুরি, পুলিশকে বাধা প্রদান এবং ভাঙচুর। এছাড়া তিনি মাদকাসক্তি, মদ্যপান সংক্রান্ত সমস্যা এবং বিষণ্নতার সঙ্গেও লড়াই করেছিলেন। ২০১৫ সালে তিনি ‘ডক্টর ফিল’ অনুষ্ঠানে দুবার তাঁর মদ্যপানজনিত সমস্যা নিয়ে কথা বলেছিলেন। তাঁর পরিবারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ‘যদিও গোপন নয় যে নিকোলাসের জীবনে অনেক সংগ্রাম ছিল, তবুও তিনি চিকিৎসা ও ওষুধের মাধ্যমে তাঁর সমস্যাগুলি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং মৃত্যুর পূর্বে তিনি ভবিষ্যতের ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী ছিলেন।’
তাঁর পরিবার এই সময়ে ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অনুরোধ করেছে। তাঁরা বলেছেন, ‘আমাদের পরিবার এই সময়ে প্রাইভেসির অনুরোধ জানাচ্ছে, কারণ আমরা তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত এবং তাঁর জীবনকে তাঁর তীব্রতা, কল্পনাশক্তি ও হৃদয়বত্তার সঙ্গে স্মরণ করছি। যাঁরা তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থন দেখিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’
মন্তব্য করুন