দিল্লির রাজধানীতে ভারতের অন্যতম পুরনো ও সম্মানিত সংবাদ সংস্থা ইউনাইটেড নিউজ অব ইন্ডিয়ার (ইউএনআই) কার্যালয় সিল করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বিকেলে দিল্লি পুলিশের একটি দল রাজধানীর রফি মার্গে অবস্থিত ইউএনআইয়ের কার্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে তা সিল করার কাজ সম্পন্ন করে। এ সময় কার্যালয়ের কর্মীদের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগও উঠেছে। সংবাদ সংস্থাটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পুলিশ কর্মীরা তাদের নারী কর্মীদেরও লাঞ্ছনা করেছে। ইউএনআই কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের কাছে পুরো ঘটনার ভিডিও footage রয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে কর্মীদের নিজেদের জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।
ইউএনআই কর্তৃপক্ষ জানায়, দিল্লি হাইকোর্টে তাদের জমি বরাদ্দ সংক্রান্ত আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পরই পুলিশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে। ইউএনআইয়ের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘দ্য স্টেটসম্যান’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে একে ‘নজিরবিহীন নিষ্ঠুরতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত’ হিসেবে অভিহিত করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কার্যালয়ের ভেতরে কর্মীদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে বাইরে আটকে রাখা হয়েছিল।
অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে পাল্টা বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। নয়া দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) শচীন শর্মা জানান, পুরো প্রক্রিয়া যথাযথ আইনি বিধান মেনেই সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনও অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি। তিনি দাবি করেন, পুরো সিলিং প্রক্রিয়ার ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। তবে ইউএনআইয়ের অভিযোগ, ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একজন নারী পুলিশ সদস্য একজন মহিলা সাংবাদিককে ধাক্কা মেরে ফেলে দিচ্ছেন। ঘটনার ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ইউএনআইয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দেশের অন্যতম প্রাচীন ও সম্মানিত সংবাদ সংস্থার কার্যালয় সিল করার ঘটনাটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ভারতের সংবিধানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, কিন্তু এরূপ পদক্ষেপ সেই অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’ ইউএনআইয়ের মুখপাত্র সাংবাদিকদের বলেন, তারা দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং আদালতের শরণাপন্ন হবেন।
এ ঘটনায় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও সোচ্চার হয়ে উঠেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী টুইট করে বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভকে দুর্বল করার এই প্রচেষ্টা দেশের জন্য কলঙ্কজনক।’ অপরদিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাংবাদিক সংগঠনগুলোও প্রতিবাদ জানিয়েছে। ভারতীয় সাংবাদিক ইউনিয়ন (আইইউজে) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা দ্রুত এই ঘটনার তদন্ত দাবি করছে এবং দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন