ProbasiNews
২১ মার্চ ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

তিন বছর বয়সে ছেলেকে নিয়ে ক্ষুদ্র ঘরের গ্রামে উঠেছিলেন এই স্থপতি— এখনও রয়েছেন!

নেদারল্যান্ডসের এক ক্ষুদ্র ঘরবাড়ির গ্রামে সাত বছর আগে নিজের সাত বছরের ছেলেকে নিয়ে উঠেছিলেন স্থপতি ম্যাথিজ ভ্যান ডার হ্যাম। তারপর থেকেই সেই ক্ষুদ্র ঘরের গ্রামেই রয়েছেন তিনি। নিজেদের ছোট্ট ঘরবাড়ি নিয়ে তিনি এখনও খুবই খুশি। এই ক্ষুদ্র ঘরের গ্রামের নাম ‘মিনিটোপিয়া’, যা নেদারল্যান্ডসের হার্টোজেনবস শহরের কাছে অবস্থিত। গ্রামটি এখনও বেশ পরিচিত নয়, তবে পরিবেশ খুবই শান্ত ও স্বস্তিদায়ক।

ম্যাথিজ জানান, তার ছেলে এখন তেরো বছরের। এই ক্ষুদ্র গ্রামে থাকার সব থেকে বড় সুবিধা হলো তার ছেলের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা। এখানে কারও গাড়ির তাড়া নেই, চারপাশে সবুজ গাছপালা আর মানুষজন অনেক মিলেমিশে থাকেন। এমনকি তার ছেলের জন্মদিনের অনুষ্ঠানও পরিণত হয়েছিল এক ক্ষুদ্র উৎসবের মতো। যে কারণে তিনি আর কোথাও যেতে চান না।

২০১৯ সালে ম্যাথিজ তার পুরোনো বাড়ি ছেড়ে এই ক্ষুদ্র ঘরের গ্রামে উঠেছিলেন। সেসময় গ্রামটিতে অনেক পর্যটক আসতেন, ড্রোন নিয়ে ছবিও তোলা হতো। কিন্তু এখন সেই অবস্থা নেই। ক্ষুদ্র ঘর যেন সাধারণ হয়ে উঠেছে। গ্রামের রাস্তায় কংক্রিটের পরিবর্তে এখন অনেক সবুজ দেখা যায়। ম্যাথিজ নিজেই প্রতি বছর রাস্তায় গাছ লাগান আর প্রতিবেশীরাও তার সাথে যোগ দেন। এমন স্বাধীনতা তিনি অন্য কোথাও পেতেন না।

গ্রামটিতে কোনো বেড়া নেই, কোনো কঠোর নিয়ম নেই। এমনকি কাঠের কাজ করতে গেলেও কেউ তাকে আটকায় না। প্রতিবেশীরা তার কাজের প্রশংসা করেন। ম্যাথিজ বলেন, এই পরিবেশ তার মনকে অনেকটা মুক্ত করে দেয়। তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে গ্রামটির উন্নয়নে কাজ করছেন। এমনকি তিনি একটি ছোট্ট পার্বত্য অঞ্চল কিনতে চান যেখানে তার ছেলের জন্য আরো বেশি খেলার জায়গা থাকবে। তবে এই ক্ষুদ্র ঘরের গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা তার নেই।

গ্রামটিতে প্রতি মঙ্গলবার সবাই একত্রিত হন। তারা একসাথে শিল্প তৈরি করেন, খান আর গল্প করেন। এমন সামাজিক মিলেমিশে থাকার সুযোগ তিনি অন্য কোথাও পেতেন না। ম্যাথিজের ছেলেও এখানে অনেক স্বাধীনভাবে বেড়ে উঠছে। সে প্রায়ই বাইরে ঘুরতে বের হয় আর নির্দিষ্ট সময়ে ফিরে আসে। এমন পরিবেশ শিশুদের জন্য খুবই উপযোগী বলে মনে করেন তিনি।

ম্যাথিজের কাছে এই ক্ষুদ্র ঘরের গ্রাম যেন তার নিজেরই একটি বাড়ি। তিনি নিজেই তার ঘরের রক্ষণাবেক্ষণ করেন আর ইচ্ছামতো পরিবর্তন আনেন। এমনকি তিনি তার বারান্দায় ছাদও বানিয়েছেন। তার স্বপ্ন ছিল এক টুকরো জমি কিনে সেখানে বাগান করা। কিন্তু এই ক্ষুদ্র ঘরের গ্রাম যেন তার জীবনের এক অংশ হয়ে গেছে। সাত বছর ধরে তিনি এখানে রয়েছেন আর আরো অনেকদিন থাকতে চান বলে জানান।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হারভে কেন ওপেনএআইয়ের মতোই তুলছে বিপুল অর্থ? আইনশিল্পে বিপ্লবের লক্ষ্যে হারভের অভিযান

এআই বিপ্লবে নতুন শক্তি: মেটার বিশাল চুক্তির পরেও কেন থামছে না নেবিয়াস?

অ্যামাজনের নতুন পরীক্ষা: অন্যান্য ওয়েবসাইটেও প্রাইম সদস্যদের ফ্রি শিপিং সুবিধা!

দ্রুত বর্ধিত ও দ্রুত সঙ্কুচিত মার্কিন শহরসমূহ

মাইক্রোসফটের ব্যবস্থাপক থেকে চাকরি হারিয়ে তিন বছরেও কর্মহীন! মনোবল হারাননি করিনা

মহাযুদ্ধের প্রস্তুতি: যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র উৎপাদনে বিপুল বৃদ্ধি

বিদেশ যাওয়ার সুযোগ রইল না, তাই স্বামী আর ছেলেকে পাঠিয়ে দিলাম লন্ডনে! কেন জানেন?

চল্লিশ বছরের ঐতিহ্যবাহী প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান ক্যালওয়ে’র দেউলিয়ার ঘোষণা, বব ডিল্যানকে চার লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা বাকি!

বিশ্বযুদ্ধে বিমান প্রতিরক্ষা: অসম্ভব সবকিছু রক্ষা করা, পশ্চিমাদের কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হওয়া

বিমানবন্দরে আইসিই কর্মীদের যাত্রী পরিচয় যাচাই শুরু

১০

বিখ্যাত গীতিকার চিপ টেলরের মৃত্যু: সঙ্গীত জগতের এক অধ্যায়ের সমাপ্তি

১১

আফ্রিকার জন্য উদ্দেশ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী নষ্ট হওয়ার উপক্রম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে

১২

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহানগরীগুলিতে অভিবাসন কমার প্রভাব: আদমশুমারি প্রতিবেদনের চাঞ্চল্যকর তথ্য

১৩

নিউ ইয়র্ক সিটিতে অভিবাসন কমায় জনসংখ্যা স্থবির, দেশজুড়ে উদ্বেগ

১৪

ইরান ইস্যুতে ইউরোপীয় নেতাদের দ্বিধায় ফেলল ট্রাম্পের হুমকি

১৫

ঠান্ডা যুদ্ধের মহান অপরাধ: জাতির জনককে হত্যার দায় কোনও দেশের কাঁধে না থাকা কেন?

১৬

২০২৬-এর টিএসএ জটিলতা: বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশিতে যাত্রীদের দুঃসহ অভিজ্ঞতা

১৭

অনলাইন জুয়ার আয় থেকে শুরু, এখন জাতীয় স্তরের রেস্তোরাঁ চেইনের মালিক! এক উদ্যোক্তার বিস্ময়কর গল্প

১৮

পদ্মাপারে শোকের ছায়া: দৌলতদিয়া ঘাটে বাসডুবিতে স্বজনদের বিলাপ

১৯

ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর সামরিক তৎপরতা নিক্সনের ভিয়েতনাম যুদ্ধকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে

২০