গত কয়েক মাস ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মচারীদের জীবনে নেমে এসেছে এক অভূতপূর্ব সংকট। সরকারি কর্মকাণ্ডের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন না পাওয়ায় চলছে আংশিক সরকারি স্থগিতাদেশ। এর জেরে বেতন না পেয়ে অনেক টিএসএ (ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) কর্মী কাজে ফিরছেন না। ফলে মার্কিন বিমানবন্দরগুলিতে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি। এ পরিস্থিতিতে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মুস্ক স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে টিএসএ কর্মীদের বেতন দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। কিন্তু তাঁর সেই উদ্যোগ আইনগত জটিলতার কারণে কার্যকর হবে কি না তা নিয়েই তৈরি হয়েছে সংশয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনস্থ টিএসএ কর্মীদের বেতন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গড়ে প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী কাজে যোগ দিচ্ছেন না। নিউ ইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলিতে অনুপস্থিতির হার দাঁড়িয়েছে ২০ শতাংশ পর্যন্ত। একজন টিএসএ কর্মীর বার্ষিক বেতন শুরু হয় প্রায় ৪০ হাজার ডলার থেকে। সারা দেশে প্রায় ৫০ হাজার টিএসএ কর্মী রয়েছেন। মুস্ক তাঁর এক্স পোস্টে লিখেছেন, “আমি টিএসএ কর্মীদের বেতন দেওয়ার প্রস্তাব রাখছি, যাঁদের পারিশ্রমিক নিয়ে এই অচলাবস্থা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দেশজুড়ে বিমানবন্দরগুলিতে অসংখ্য মানুষের জীবনে এই সমস্যা বিরূপ প্রভাব ফেলছে।”
মুস্কের প্রস্তাব সত্ত্বেও এর আইনি বাধা রয়েই গেছে। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার একমাত্র অধিকার সরকারের। কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা সরকারি কর্মচারীদের জন্য বেতন দিতে পারেন না। ফলে মুস্কের উদ্যোগটি কার্যত কার্যকরী হবে না বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। অন্যদিকে, সঙ্কট আরও ঘনীভূত করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইটারে হুমকি দিয়েছেন, বলেছেন কংগ্রেস যদি অর্থায়নের বিষয়ে সমঝোতা না করে তাহলে তিনি টিএসএ কর্মীদের বদলে আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) কর্মীদের নিয়োগ দেবেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণায় আরও চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
এ অবস্থায় মার্কিন সরকারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের অর্থায়ন নিয়ে চলছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। কংগ্রেসের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত থাকায় টিএসএ কর্মীদের মতো সহস্রাধিক সরকারি কর্মচারী রয়েছেন অনিশ্চয়তার মধ্যে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিকে কেন্দ্র করে এই অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানও থামছে না, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
ইতিমধ্যে কয়েকটি বিমানবন্দরে কর্মীদের অনুপস্থিতির কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ভ্রমণকারী ও কর্মীদের জীবনে সৃষ্টি হচ্ছে অতিরিক্ত চাপ। মুস্কের মতো ব্যক্তিপর্যায়ের উদ্যোগ নিয়ে যদি সরকারের স্থগিতাবস্থা কাটানো না যায়, তাহলে সমাধানের জন্য অবশ্যই কংগ্রেস ও সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় মার্কিন নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।
মন্তব্য করুন