ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার মাত্র কয়েক মিনিট আগে তেলের ভবিষ্যত ব্যবসায় অস্বাভাবিক লাফ দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞরা এ ঘটনাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে অভিহিত করে এ নিয়ে তদন্তের দাবি তুলছেন। গত সোমবার ভোরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানের সাথে শান্তি আলোচনার ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে দামে ধস নামে এবং ডাও জোন্স শিল্প গড় সূচক প্রায় ১ হাজার পয়েন্ট পর্যন্ত লাফিয়ে ওঠে। তবে এর আগে শনিবার ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শনের হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, দেশটির বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়া হবে যদি তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু না করে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, গত সোমবার ভোর ৬টা ৪৯ থেকে ৬টা ৫০ মিনিটের মধ্যে প্রায় ৬ হাজার ২০০টি ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের ফিউচার্স চুক্তি লেনদেন হয়েছে, যার মূল্য ছিল প্রায় ৫৮ কোটি ডলার। অথচ এর আগের পাঁচ কার্যদিবসে একই সময়ের মধ্যে গড়ে মাত্র ৭০০টি চুক্তি লেনদেন হতো। ট্রাউটম্যান পেপার লোক নামক আইনি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার স্টিফেন পিপগ্রাস বলেন, ‘এই অস্বাভাবিক লেনদেনের পরিমাণ দেখে অবাক হওয়ার মতো ব্যাপার। এ নিয়ে তদন্ত শুরু করা উচিত।’
অভ্যন্তরীণ তথ্যের ভিত্তিতে বাজার কারচুপির ঘটনা ‘ইন্সাইডার ট্রেডিং’ হিসেবে পরিচিত, যা আইনত দণ্ডনীয়। সিবিএস নিউজের ব্যবসা বিশ্লেষক জিল শ্লেসিঞ্জার বলেন, ‘এমনটা হওয়া অন্যায় যে কেউ যদি এমন তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবসা করে যার সুবিধা সাধারণ মানুষের থাকে না।’ তবে তিনি মনে করেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা সম্ভবত এ নিয়ে তদন্ত করবে না, কারণ ট্রাম্প পূর্বে নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করেছেন।
অর্থনীতিবিদ নোবেল বিজয়ী পল ক্রুগম্যান তার এক ব্লগ পোস্টে লিখেছেন, ‘এই ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক, কারণ কোনও প্রকাশ্য তথ্য বা বাজার প্রভাবিত করার মতো সংবাদ তখন ছিল না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘটনার একমাত্র ব্যাখ্যা হতে পারে যে কেউ ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ তথ্য কাজে লাগিয়ে বিশাল লাভ করছে।’ যদিও এই ঘটনা যে মানুষের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে নাকি কম্পিউটারাইজড ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে হয়েছে তা স্পষ্ট নয়।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান যুদ্ধের কারণে তেল বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১০০ ডলার প্রতি ব্যারেল, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় ৩৭ শতাংশ বেশি। সিএমই গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে কয়েক দিন ধরে দিনে ৩০ লাখের বেশি তেলের চুক্তি লেনদেন হয়েছে, যেখানে ফেব্রুয়ারির শেষ তিন সপ্তাহে গড়ে লেনদেন হতো ৭ লাখ থেকে ১৪ লাখ চুক্তি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের অস্বাভাবিক ঘটনা নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে আরও কঠোর অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।
মন্তব্য করুন