যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার দেশটির জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতি সামলাতে ‘জোনস অ্যাক্ট’-এর উপর ছয় মাসের জন্য স্থগিতাদেশ জারি করেছেন। এই আইনটি অনুসারে, মার্কিন বন্দরগুলির মধ্যে পণ্য পরিবহনে শুধুমাত্র মার্কিন নির্মিত, মার্কিন পতাকাবাহী এবং মার্কিন কর্মীযুক্ত জাহাজ ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে। ফলে বিদেশি জাহাজগুলি মার্কিন বন্দরে জ্বালানি পরিবহনে বাধাপ্রাপ্ত হত। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মার্কিন বন্দরগুলিতে অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার ও কয়লা স্বল্পমূল্যে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লাভিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘অপারেশন ইপিক ফিউরি’-এর অংশ হিসেবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কার্যক্রমের ফলে জ্বালানি সরবরাহে যে বিঘ্ন ঘটছে, তা কিছুটা হলেও কমানোর উদ্দেশ্যে এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘এই পদক্ষেপের ফলে আগামী ষাট দিন মার্কিন বন্দরগুলিতে জ্বালানিসহ গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ নির্বিঘ্নে পৌঁছাবে। প্রশাসন সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।’
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া মার্কিন অভ্যন্তরীণ গ্যাসের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত মার্চ মাসের শুরুতে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম ছিল ২.৯২ ডলার, যা এখন দাঁড়িয়েছে ৩.৮৪ ডলারে। ডিজেলের দাম আরও বেশি বেড়ে গত সপ্তাহে প্রতি গ্যালন ৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে।’
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জোনস অ্যাক্ট স্থগিত করার ফলে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে না। ‘সেন্টার ফর আমেরিকান প্রগ্রেস’ নামক একটি স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণ অনুসারে, এই স্থগিতাদেশ কার্যকর হওয়ার ফলে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম মাত্র তিন সেন্ট কমতে পারে। তবুও প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেক বিশ্লেষক।
এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন একই উদ্দেশ্যে ভেনেজুয়েলার উপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞাও তুলে নিয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি ‘পেত্রোলিওস দে ভেনেজুয়েলা এসএ’কে মার্কিন কোম্পানিগুলির সঙ্গে ব্যবসা করার অনুমতি দিয়েছে। ফলে ভেনেজুয়েলার তেল এখন মার্কিন বাজারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করা যাবে।’
মন্তব্য করুন