কিউবার সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে যে কিউবার রাষ্ট্রপতি মিগুয়েল দিয়াজ-কানেলকে ক্ষমতাচ্যুত করতে হবে। গোপন সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, আলোচনার মঞ্চে অর্থবহ অগ্রগতি ঘটাতে চাইলে মার্কিন পক্ষ দিয়াজ-কানেলকে ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। যদিও বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবে মার্কিন প্রশাসনের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে অনেকেই দেখছেন কিউবার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ হিসেবে। কারণ, দিয়াজ-কানেল কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে কিউবা মার্কিন বিরোধী অবস্থান নিয়ে চলমান। ফলে মার্কিন প্রশাসনের এই দাবি কিউবার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে কিউবার সরকারি মুখপাত্ররা জানিয়েছেন, তাঁরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনও বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, কিউবার জনগণই ঠিক করবে দেশটির নেতৃত্ব কে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কারণ, দিয়াজ-কানেল ক্ষমতায় থাকলে কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের সম্ভাবনা ক্ষীণ। অন্যদিকে, তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করা হলে কিউবায় নতুন নেতৃত্ব গঠিত হতে পারে, যার ফলে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের পথ প্রশস্ত হতে পারে।
তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার ঝড় তুলতে পারে। কারণ, কিউবার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠতে পারে মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে নিন্দা জানিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কিউবার সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ নতুন উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে। কারণ, কিউবার সরকার ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ফলে আলোচনার মাধ্যমে কোনও সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: NEW YORK TIMES
মন্তব্য করুন