ProbasiNews
২১ মার্চ ২০২৬, ৪:০৭ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

কংগ্রেসের যৌন হেনস্থার ইতিহাস: নীরবতার সংস্কৃতি ভাঙার লড়াই

কংগ্রেসের সদস্যরা যৌন হয়রানি ও অসদাচরণের অভিযোগ নিয়ে যেসব তদন্ত হয়েছে, তার রেকর্ডগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ্যে আসার কথা ছিল। কিন্তু ওয়াশিংটনের ক্ষমতাধরেরা তা চিরতরে গোপন করে রাখতে চেয়েছেন। অভিযোগ উঠলে তদন্ত হয়েছে, নথিপত্র তৈরি হয়েছে, এমনকি ক্ষতিগ্রস্তদের অভিজ্ঞতা প্রকাশও হয়েছে। কিন্তু তারপর? সবই চাপা পড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা ন্যায় পাননি, আর অপরাধীরা তাদের আসন ধরে রেখেছেন ট্যাক্স দাতাদের অর্থে। এই ব্যবস্থা চলছে দীর্ঘদিন ধরে।

রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে প্রায়ই মতের মিল ঘটে যখন নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করার প্রশ্ন আসে। যৌন হয়রানির ঘটনা প্রকাশ্যে আসুক তা তারা কোনোভাবেই চাননি। সম্প্রতি রিপাবলিকান প্রতিনিধি টনি গঞ্জালেসের বিরুদ্ধে তার কর্মী রেজিনা স্যান্টোস-আভিলেসকে যৌন উত্তেজক বার্তা পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে পদত্যাগের দাবি উঠলেও এই ঘটনা আসলে অনেক গভীরে। গঞ্জালেস পদত্যাগ করবেন, কিন্তু তার কর্মী রেজিনা আর কোনোদিন জীবন ফিরে পাবেন না। মৃত্যুই তার শেষ পরিণতি।

গঞ্জালেস একমাত্র ব্যক্তি নন। কংগ্রেসে এমন অনেক ক্ষমতাশালী ব্যক্তি রয়েছেন যারা কর্মীদের ওপর যৌন হয়রানি চালিয়েছেন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে ব্যবস্থাটিই তাদের রক্ষা করেছে। তদন্তের নথিপত্র গোপন রাখা হয়েছে যাতে ক্ষতিগ্রস্তরা চিরতরে চুপ হয়ে যান। কিন্তু প্রশ্ন হলো— এমন ঘটনা আর কতবার ঘটবে? কতজন কর্মী তাদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আর তারপর চাপা পড়ে গেছেন নিজেদের কথাই বলতে পারেননি?

কর্মক্ষেত্রে নারীরা নিরাপদে কাজ করতে পারেন না যখন তাদের বসরাই তাদের হয়রানি করেন। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমেরিকার জনগণকে জানতে হবে তাদের প্রতিনিধিরা আসলে কী করছেন— তারা জনগণের কাজ করছেন নাকি ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। কিন্তু কংগ্রেসের ৩৫৭ জন সদস্য যখন এই সত্যটি প্রকাশ্যে আনতে ভোট দিতে অস্বীকার করলেন, তখন তারা আসলে একটা আড়াল তৈরি করলেন। তারা ক্ষতিগ্রস্তদের রক্ষা করার কথা বললেও আসলে নিজেদের ও তাদের সহকর্মীদের গোপন করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। তারা শিকারিদেরই রক্ষা করেছেন।

যখন তারা আপনার ভোট চাইবেন, তখন মনে রাখবেন— যারা এই ভোট দিয়েছেন তারা যৌন হেনস্থার ইতিহাস গোপন রাখতে চেয়েছেন। তারা এতদিন নিজেদের সহকর্মীদের যৌন নিপীড়নের ঘটনা চেপে রেখেছেন। তারপর আবার জেফরি এপস্টাইনের মতো ব্যক্তির বিরুদ্ধে কথা বলতে চাইছেন। একই সঙ্গে দুটো মুখোমুখি অবস্থান নেওয়া যায় না। হয় আপনি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকুন, নয়তো তাদের বিরুদ্ধে থাকুন। কোনো মধ্যপন্থা নেই।

আমার প্রস্তাবিত রেজোলিউশনের পক্ষে ভোট দেওয়া ৬৫ জন সদস্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইতিহাস তাদের অবদানকে স্মরণ করবে। আর যারা বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন, তাদের কাছে জবাবদিহিতা চাই। ওয়াশিংটনের ক্ষমতাধরেরা নিজেদের রক্ষা করতেই ব্যস্ত। তাদের কাছে ক্ষতিগ্রস্তদের কোনো মূল্য নেই। ক্ষতিগ্রস্তরা আরো ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য ছিল। জনগণও তা পাওয়ার যোগ্য।

আমরা এখানেই থেমে থাকিনি। হাউস ওভারসাইট কমিটি আমাদের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে যাতে কংগ্রেসের কর্মক্ষেত্র বিষয়ক অধিকার অফিসকে তলব করা যায়। এর ফলে কংগ্রেস সদস্যদের বিরুদ্ধে হওয়া যৌন হয়রানির মামলায় ট্যাক্স দাতাদের অর্থে যে সব ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে, তার তালিকা প্রকাশ করা হবে। যারা নিজেদের স্বার্থে ট্যাক্স দাতাদের অর্থ ব্যয় করেছেন, তাদের নাম প্রকাশ করা হবে। আমরা এটা নিশ্চিত করব। আমরা থামব না। আপনিও থামবেন না।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হারভে কেন ওপেনএআইয়ের মতোই তুলছে বিপুল অর্থ? আইনশিল্পে বিপ্লবের লক্ষ্যে হারভের অভিযান

এআই বিপ্লবে নতুন শক্তি: মেটার বিশাল চুক্তির পরেও কেন থামছে না নেবিয়াস?

অ্যামাজনের নতুন পরীক্ষা: অন্যান্য ওয়েবসাইটেও প্রাইম সদস্যদের ফ্রি শিপিং সুবিধা!

দ্রুত বর্ধিত ও দ্রুত সঙ্কুচিত মার্কিন শহরসমূহ

মাইক্রোসফটের ব্যবস্থাপক থেকে চাকরি হারিয়ে তিন বছরেও কর্মহীন! মনোবল হারাননি করিনা

মহাযুদ্ধের প্রস্তুতি: যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র উৎপাদনে বিপুল বৃদ্ধি

বিদেশ যাওয়ার সুযোগ রইল না, তাই স্বামী আর ছেলেকে পাঠিয়ে দিলাম লন্ডনে! কেন জানেন?

চল্লিশ বছরের ঐতিহ্যবাহী প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান ক্যালওয়ে’র দেউলিয়ার ঘোষণা, বব ডিল্যানকে চার লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা বাকি!

বিশ্বযুদ্ধে বিমান প্রতিরক্ষা: অসম্ভব সবকিছু রক্ষা করা, পশ্চিমাদের কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হওয়া

বিমানবন্দরে আইসিই কর্মীদের যাত্রী পরিচয় যাচাই শুরু

১০

বিখ্যাত গীতিকার চিপ টেলরের মৃত্যু: সঙ্গীত জগতের এক অধ্যায়ের সমাপ্তি

১১

আফ্রিকার জন্য উদ্দেশ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী নষ্ট হওয়ার উপক্রম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে

১২

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহানগরীগুলিতে অভিবাসন কমার প্রভাব: আদমশুমারি প্রতিবেদনের চাঞ্চল্যকর তথ্য

১৩

নিউ ইয়র্ক সিটিতে অভিবাসন কমায় জনসংখ্যা স্থবির, দেশজুড়ে উদ্বেগ

১৪

ইরান ইস্যুতে ইউরোপীয় নেতাদের দ্বিধায় ফেলল ট্রাম্পের হুমকি

১৫

ঠান্ডা যুদ্ধের মহান অপরাধ: জাতির জনককে হত্যার দায় কোনও দেশের কাঁধে না থাকা কেন?

১৬

২০২৬-এর টিএসএ জটিলতা: বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশিতে যাত্রীদের দুঃসহ অভিজ্ঞতা

১৭

অনলাইন জুয়ার আয় থেকে শুরু, এখন জাতীয় স্তরের রেস্তোরাঁ চেইনের মালিক! এক উদ্যোক্তার বিস্ময়কর গল্প

১৮

পদ্মাপারে শোকের ছায়া: দৌলতদিয়া ঘাটে বাসডুবিতে স্বজনদের বিলাপ

১৯

ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর সামরিক তৎপরতা নিক্সনের ভিয়েতনাম যুদ্ধকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে

২০