তরুণ প্রকৌশলী কণব ভাটনগরকে বলা হয় ‘ফরওয়ার্ড ডিপ্লয়েড ইঞ্জিনিয়ার’ (এফডিই)। মাত্র এক বছরের মধ্যেই নিজেকে তুলে ধরেছেন তিনি ‘এআই শিল্পের সবথেকে চাহিদাসম্পন্ন চাকরি’ হিসেবে পরিচিত এই পদে। নিউ ইয়র্কে অবস্থানরত কণব এখন রিপলিং নামক মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র এফডিই হিসেবে কর্মরত। তাঁর কাজ হলো গ্রাহকদের মুখোমুখি থেকে তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যারের কাস্টমাইজেশন করা।
কণব জানিয়েছেন, তাঁর দিন শুরু হয় গ্রাহকদের সঙ্গে কথোপকথন দিয়ে। তিনি বলেন, ‘সাধারণ সফটওয়্যার প্রকৌশলীরা প্রায়শই তাঁদের তৈরি করা সিস্টেমের প্রভাব সরাসরি দেখতে পান না। কিন্তু একজন এফডিই হিসেবে আমি গ্রাহকদের কাছাকাছি থেকে তাঁদের সমস্যার সমাধান করতে পারি।’ উদাহরণস্বরূপ, তিনি বলেন, কোনো রেস্টুরেন্ট চেইনের কর্মীদের বেতন ব্যবস্থাপনার জটিল প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করতে তাঁর দলকে সাহায্য করেন তিনি।
কণবের যাত্রা শুরু হয়েছিল অ্যামাজনের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সেখান থেকে তিনি আলাদিন এআই নামে একটি বিক্রয়-কেন্দ্রিক স্টার্টআপে যোগ দেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের অক্টোবরে রিপলিংয়ে সিনিয়র এফডিই হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি। তাঁর মতে, এফডিই পদটি ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধানে সফটওয়্যার প্রকৌশলের সঙ্গে যুক্ত। এই পদে সফল হতে হলে প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি যোগাযোগ দক্ষতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, ‘এফডিই হিসেবে কাজ করতে গেলে দ্রুত প্রেক্ষাপট পরিবর্তন করার ক্ষমতা থাকতে হবে। এক মুহূর্তে গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলা থেকে শুরু করে কোডিংয়ে মনোনিবেশ করতে হয়। আবার পরক্ষণেই অন্য গ্রাহকের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত হতে হয়।’ তাঁর মতে, এই পদটি একজন উদ্যোক্তা হওয়ার জন্যেও আদর্শ পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করে। কণব মনে করেন, এআই প্রযুক্তি যুগান্তকারী হলেও এফডিইদের চাহিদা সবসময়ই থাকবে, কারণ ক্লায়েন্টদের সঙ্গে বড় চুক্তি সম্পাদনের জন্য দক্ষ মানুষের প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘এফডিই পদটি দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। এমনকি যদি এআই প্রযুক্তি লোকসানের মুখে পড়ে যায়, তবুও গ্রাহকদের জন্য সফটওয়্যার তৈরির প্রয়োজন থাকবে। ফলে এই পদটি ভবিষ্যতেও টিকে থাকবে।’ তাঁর এই অভিজ্ঞতা থেকে যারা এআই শিল্পে প্রবেশ করতে চান, তাঁদের জন্য তিনি পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং যোগাযোগ দক্ষতার সমন্বয় ঘটাতে।
মন্তব্য করুন