ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে ঈদের নামাজ আদায়ের পরপরই দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘর্ষ এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে। শুক্রবার মধ্যরাতে টর্চলাইটের আলোয় শুরু হওয়া সংঘর্ষের পর শনিবার সকালে ঈদের নামাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দুই গ্রুপ আবার মুখোমুখি হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে অন্তত বারোটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই চলছে দুই গ্রুপের মধ্যে। এক পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইসমাইল মুন্সী (৬৫), অন্যপক্ষে কামরুল মিয়া (৪৫)।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুই গ্রুপই সংঘর্ষে অংশ নিয়েছিল ঢাল, সড়কি, রামদা ও ইটপাটকেল নিয়ে। সংঘর্ষের কারণে বেশ কয়েকটি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে। ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক পলাশ সাহা জানান, সংঘর্ষে আহত ১১ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা ওহিদুর রহমান (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্য আটজনকে ভর্তি করা হয়েছে। দুইজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল বৃহস্পতিবার রাতে। গোপীনাথপুর গ্রামের একটি চা দোকানে ইসমাইল মুন্সীর ছেলে ফুয়াদ হোসেন ও কামরুল মিয়ার মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর উভয় পক্ষই মধ্যরাতে টর্চলাইটের আলোয় সশস্ত্র সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সামান্য বিষয় নিয়েও দুই পক্ষই সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ছে।
এলাকাবাসী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই ধরনের সংঘর্ষ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। গ্রাম্য নেতাদের প্রভাবের কারণে সাধারণ মানুষও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা। অন্যথায়, আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিমত তাদের।
মন্তব্য করুন