ঈদের পরদিন ঢাকার কলাবাগান শিশুপার্ক হয়ে উঠেছিল আনন্দ আর উল্লাসের কেন্দ্রবিন্দু। দক্ষিণ সিটি করপোরেশন পরিচালিত এই শিশুপার্কটি সাধারণত শিশুদের খেলাধুলা আর আনন্দের জন্য পরিচিত হলেও গত ২২ মার্চ সেখানে দেখা গিয়েছিল এক ভিন্নধর্মী উৎসবের আমেজ। চারদিক থেকে ছুটে আসা শিশু, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিলেন সেই আনন্দমুখর পরিবেশে। সকাল থেকেই শিশুদের উচ্ছ্বল হাসি আর চিৎকারে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। খেলার সাথী খুঁজতে ব্যস্ত শিশুরা একে অপরের সঙ্গে মিশে খেলা শুরু করে দেয়। দোলনা, স্লাইড, সাঁতার কাটার পুলসহ বিভিন্ন রাইডে চেপে উল্লাস প্রকাশ করতে থাকে তারা। অভিভাবকরা সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটাতে ব্যস্ত ছিলেন, কেউ কেউ আবার নিজেরাও শিশুদের মতো আনন্দ উপভোগ করেছেন।
শিশুপার্কের চারপাশে বিভিন্ন দোকানপাট ও স্টলে সাজানো হয়েছিল নানান রকমের খাবার আর মিষ্টির পসরা। ঈদের উপহার হিসেবে শিশুরা নিজেদের পছন্দের খাবার কিনে খেতে ব্যস্ত ছিল। অনেকে আবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে গল্প করতে করতে মজাদার খাবার উপভোগ করেছে। স্থানীয় দোকানিরা জানান, ঈদের পরদিন বিক্রির পরিমাণ অনেকাংশেই বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশুপার্কে প্রবেশের জন্য নির্ধারিত ফি থাকলেও অনেক অভিভাবকই তা প্রদান না করে প্রবেশ করেছেন বলে জানা গেছে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।
শিশুপার্কের কর্মকর্তারা জানান, ঈদের পরবর্তী দিন হওয়ায় অনেক পরিবারই তাদের সন্তানদের নিয়ে বেড়াতে আসার পরিকল্পনা করেছিল। ফলে দিনের শুরু থেকেই শিশুপার্কে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বেড়ে যায়। শিশুপার্ক কর্তৃপক্ষ জানান, তারা সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন যাতে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে। শিশুদের জন্য বিশেষভাবে বরাদ্দ করা হয়েছিল নিরাপদ খেলার পরিবেশ। এক অভিভাবক বলেন, “আমার ছেলেটা প্রায়ই এখানে আসতে চায়। আজকের দিনটা তার জন্য অনেক আনন্দের ছিল। আমি নিজেও অনেক আনন্দ পেয়েছি।”
অপর এক অভিভাবিকা জানান, “আমি আমার দুই মেয়েকে নিয়ে এসেছি। এখানে আসার পর তারা অনেক খুশি। খেলাধুলা করার পাশাপাশি তারা অনেক নতুন বন্ধুও তৈরি করেছে।” শিশুপার্কের পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “শিশুদের আনন্দ দেওয়ার জন্য আমরা সবসময়ই সচেষ্ট। ঈদের পরের দিনটিও এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিল না। আমরা চেষ্টা করেছি শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে।” তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুপার্কের এমন উৎসবমুখর পরিবেশকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, এমন উদ্যোগ শিশুদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এক প্রবীণ নাগরিক বলেন, “আমাদের সময়ে এমন সুযোগ ছিল না। এখনকার শিশুরা অনেক ভাগ্যবান। তারা এখানে এসে খেলাধুলা করার পাশাপাশি নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারছে।” স্থানীয় প্রশাসন ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এমন উদ্যোগকে আমাদের সর্বাত্মক সমর্থন।”
মন্তব্য করুন