মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে আগুন ধরে যাওয়ায় পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে। ইরান এখন শূন্য সংযমের ঘোষণা দিয়ে সারা অঞ্চলে শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর শক্তিসামর্থ্যের ওপর হামলা চালাচ্ছে। কুয়েত ও কাতারের মতো দেশগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল-গ্যাস উৎপাদন স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছেন যে, আগামীকাল শুক্রবার ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযান চালানো হবে। একই সাথে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন যে, ইরানের অভ্যন্তরে আরো গভীরে হামলা চালানো হচ্ছে। পেন্টাগনের অনুমান অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলারের অনুমোদন চেয়েছে। হেগসেথ বলেছেন, ‘এই অর্থ ব্যয় করতে হবে খারাপ লোকদের হত্যা করার জন্য।’
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে পুনরায় হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে ইরান যদি কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র পুরো গ্যাসক্ষেত্র ধ্বংস করে দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের এই হামলার বিষয়ে আগে থেকে অবগত ছিল না। কাতারও এই হামলার সাথে জড়িত নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ঘোষণা করেছেন যে, যদি ইরানের অবকাঠামোতে পুনরায় হামলা চালানো হয়, তাহলে ইরান আর কোনো সংযম দেখাবে না। তিনি এক্সে লিখেছেন, ‘ইসরায়েলের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার জবাবে আমরা মাত্র সামান্য শক্তি প্রয়োগ করেছিলাম। সংযম দেখানোর একমাত্র কারণ ছিল অবনমনের অনুরোধ।’ ইরান ইতিমধ্যেই উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে, যার ফলে গ্যাস ও তেলের দাম তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত কয়েক ঘণ্টায় ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের খণ্ডাবশেষ ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে পতিত হয়েছে। এতে একজন প্রবাসী শ্রমিক নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। এছাড়া, কাতারের প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র রাস লাফানে ড্রোন হামলার ফলে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বিশ্বব্যাপী গ্যাস সরবরাহে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, দীর্ঘমেয়াদি এই সংকট বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবল মন্দার সৃষ্টি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানকে শাস্তি দিতে অভিযান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিমধ্যেই ইরানের খার্গ দ্বীপে অবস্থিত তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্রকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার লক্ষ্যে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। একই সাথে ইরানের সামরিক শক্তির ওপরেও ব্যাপক হামলা চালানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
মন্তব্য করুন