শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে, ৪ মার্চ মার্কিন টরপেডো আক্রমণে নিহত ৮৪ ইরানি নৌসেনাদের মৃতদেহ ১৫ মার্চ (শুক্রবার) ইরানে ফেরত পাঠানো হবে। এই ঘটনাটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ইরিস ডেনা শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে ডুবে যাওয়ার পর ঘটেছে।
এই নৌযানটিতে প্রায় ১৩০ জন সৈনিক ছিল বলে ধারণা করা হয়। আক্রমণের পর শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনী ৩২ জনকে বাঁচিয়েছে, যারা এখন শ্রীলঙ্কায় থাকবে। গালে ন্যাশনাল হাসপাতালে সংরক্ষিত মৃতদেহগুলি মাত্তালা রাজপক্ষা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কার একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ দিয়েছেন মৃতদেহগুলি ইরানি দূতাবাসে হস্তান্তর করার জন্য।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ইরানি নৌযানটি ‘শান্তিতে মৃত্যুবরণ করেছে’। কিন্তু ইরানের বিদেশ মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন আক্রমণকে ‘সমুদ্রে অপরাধ’ বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই ঘটনার জন্য ভবিষ্যতে পশ্চাদপসরণ করতে পারবে না।
পেন্টাগন প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, মার্কিন টরপেডো ইরানি নৌযানটিকে আঘাত করে, যার ফলে পিছনের অংশ উঠে যায় এবং পরে বিস্ফোরণ ঘটে। ইরিস ডেনা ভারতের একটি সামরিক অভ্যাস থেকে ফেরার পথে ছিল। এই ঘটনাটি মার্কিন-ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের নতুন পর্যায়ের সূচনা করেছে।
আক্রমণের পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রতিশোধ আক্রমণ চালিয়েছে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কযুক্ত দেশগুলিতে। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জলপথে সংঘটিত হয়েছে, যা সংঘাতের বিস্তারকে আরো জটিল করেছে।
শ্রীলঙ্কা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, মৃতদেহগুলি ইরানের সাথে সমন্বিতভাবে ফেরত পাঠানো হবে। এতে ইরানি সরকারের প্রতিনিধির উপস্থিতি থাকবে। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে।
এই ঘটনাটি ইরানি নৌবাহিনীর ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ইরিস ডেনা ছিল একটি আধুনিক যুদ্ধজাহাজ, যা ভারতের সাথে সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে কাজ করত। এর ডুবে যাওয়ায় ইরানের সামরিক ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।
শ্রীলঙ্কা সরকার এই ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে সহযোগিতা করছে। এই ঘটনাটি শ্রীলঙ্কার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ, কারণ এটি একটি নিরপেক্ষ দেশ। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের কারণে শ্রীলঙ্কা কঠিন অবস্থানে পড়েছে।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নতুন দিক খুলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই আক্রমণ ইরানকে আরো সতর্ক করে তুলেছে এবং মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
Source: BBC World
মন্তব্য করুন