ProbasiNews
২১ মার্চ ২০২৬, ৪:২১ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

আর্কাইভ থেকে: ইরাক যুদ্ধের প্রথম দিনের স্মৃতিচারণ

২০০৩ সালের ২০ মার্চ। ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল সেদিন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রবাহিনী ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল। বিশ্ববাসী তখন রুদ্ধশ্বাসে প্রতীক্ষা করছিল এই সংঘাতের পরবর্তী ঘটনা প্রবাহের দিকে। ইরাক যুদ্ধ, যার কোডনেম ছিল ‘অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম’, তা শুরু হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নির্দেশে। ইরাকের তৎকালীন নেতা সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মজুত রাখার অভিযোগ ছিল মূল কারণ। যদিও পরবর্তীকালে সেই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রথম দিনেই মার্কিন বিমানবাহিনী ইরাকের রাজধানী বাগদাদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এই হামলার লক্ষ্য ছিল ইরাকের সেনাবাহিনী এবং সরকারি স্থাপনাগুলিকে ধ্বংস করে দেওয়া। ইরাকি সেনাবাহিনীও পাল্টা জবাব দেয়, কিন্তু মার্কিন প্রযুক্তির সামনে তাদের প্রতিরোধ ছিল অনেকাংশেই অকার্যকর। যুদ্ধের প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাগদাদের বিভিন্ন স্থানে বিধ্বস্ত ভবন এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী চোখে পড়ে বিশ্ববাসীর। টেলিভিশনের পর্দায় সরাসরি সম্প্রচারিত হচ্ছিল এই যুদ্ধের বিভীষিকা।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম লাফিয়ে বেড়ে যায়। ইরাক বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় এই সংঘাতের প্রভাব ছিল তাৎক্ষণিক এবং সুদূরপ্রসারী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে জোটবদ্ধ দেশগুলি ইরাকের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একাংশ এই যুদ্ধকে অন্যায় আগ্রাসন বলে অভিহিত করেছিল। জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি আনান যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছিলেন।

ইরাক যুদ্ধের প্রথম দিনটি ছিল সংঘাতের এক ভয়াবহ সূচনা। পরবর্তী নয় বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে লক্ষাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল, যার মধ্যে অসংখ্য বেসামরিক নাগরিকও ছিল। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরেও ইরাকের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে অনেক সময় লেগেছিল। এই যুদ্ধের প্রভাব এখনও বিশ্ব রাজনীতিতে অনুভূত হচ্ছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে।

আজ থেকে বিশ বছর আগের সেই দিনটির স্মৃতি আজও অনেকের মনে উজ্জ্বল হয়ে আছে। যুদ্ধের বিভীষিকা দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন মানবতার ভবিষ্যৎ নিয়ে। ইরাক যুদ্ধ কি সত্যিই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য হয়েছিল, নাকি ছিল ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণের লড়াই? ইতিহাসের এই অধ্যায়টি বারবার আমাদেরকে যুদ্ধের নির্মমতা এবং শান্তির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন করে তুলছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

২০২৬ সালে কর্মী ছাঁটাইয়ের তালিকায় মেটা, অ্যামাজন, ইপিক গেমস — জানুন বিস্তারিত

এক্স-এ আলোড়ন! এলন মাস্কের হস্তক্ষেপে থমকে দাঁড়ালো ট্রলদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণ স্থগিত রাখতে যুগান্তকারী আইন আনছেন স্যান্ডার্স ও এওসি

এপস্টাইনের কেলেঙ্কারী: যুক্তরাজ্য ছাড়ার পরামর্শ রাজকুমারী বিট্রিসকে

যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের বিপদ ঘনীভূত! প্রস্তাবিত সমাধানই কি বিপরীতমুখী ফল আনবে?

‘ডেয়ারডেভিল: বর্ন অ্যাগেইন’ সিজন ২ এপিসোড ২ এর মুক্তির তারিখ ও দেখার উপায়

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় এমন কিছু ভুল করবেন না যাতে হতে পারে আইআরএস অডিট

ব্রক লেসনার তাঁর বুকের বিশাল তরবারি ট্যাটুর পিছনের অদ্ভুত গল্পটি ফাঁস করলেন!

নতুন বাড়ির পিছনের জলাশয়ে মিলল অপ্রত্যাশিত অতিথি! রোজিনের জীবনে যোগ দিল এক ব্যাঙ

২০২৬ সালের হারিকেন মরশুমে বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে ‘সুপার এল নিনো’! আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস

১০

ছবির দিনের ঠিক আগ মুহূর্তে মা যখন দেখলেন সন্তানের মুখে মার্কার কলমের ছোপ!

১১

ডেলিভারি ড্রাইভারের আবেগঘন স্বীকারোক্তি: তিন বছরের ‘পোষা প্রাণীর বন্ধুত্ব’!

১২

বিশ্বখ্যাত কোচ ব্র্যাড স্টিভেন্সের পদ প্রত্যাখ্যান! ইউনিসিকে দিলেন ফিরিয়ে

১৩

নির্মাণ প্রকল্প পরিচালনায় বিপ্লব আনতে এআই এজেন্ট তৈরি করল স্টার্টআপ, উঠল ৯ মিলিয়ন ডলার

১৪

১৪ বছর বয়সে ক্যান্সার প্রতিরোধে বিপ্লব: হার্ভার্ডের ছাত্রীর উদ্যোগে ৪০ হাজার যুবকের সামিল হওয়া

১৫

মেগান মার্কলের একপাত্র স্প্যাগেটি: মাত্র বিশ মিনিটে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার

১৬

হঠাৎ ছুটি মানেই এখন বিমানযাত্রা নয় — দাম আর সময়ের ভোগান্তিতে পাল্টে যাচ্ছে ভ্রমণের ধারা

১৭

আয়ের থেকে কম নিয়ে জীবনের ভারসাম্য খুঁজে পাওয়া সম্ভব? একজনের অভিজ্ঞতা

১৮

গাড়ি ছাড়াই ভ্রমণের জন্য আদর্শ সাতটি মার্কিন শহর

১৯

ভাইরাল হওয়া আমার বেকারিকে বাঁচিয়েছিল, কিন্তু কখনোই অর্থের জন্য নয়

২০