আফগানিস্তান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা চালিয়ে নতুন সংঘাতের অধ্যায় খুলেছে। শুক্রবারের রাতে কোয়েটা, পেশোয়ারের কোহাত এবং ইসলামাবাদের রাওয়ালপিন্ডি এলাকায় ড্রোন আক্রমণ সংঘটিত হয়েছে। এই হামলায় দুটি শিশু আহত হয়েছে এবং একটি বেসামরিক নাগরিক গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, এই হামলা আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের নির্দেশে পরিচালিত হয়েছে। তবে আফগানিস্তানের সরকার এ দাবি অস্বীকার করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তালেবান এখনো উন্নত ড্রোন ব্যবহার করতে সক্ষম নয়। তারা স্থানীয়ভাবে তৈরি ড্রোন ব্যবহার করে পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকায় হামলা চালাচ্ছে।
এই হামলার পেছনে রয়েছে গত বৃহস্পতিবারের ঘটনা। পাকিস্তান আফগানিস্তানের কাবুলসহ তিনটি এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছিল, যার ফলে চারজন নিহত হয়েছিলেন। এই হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল তালেবান।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বেসামরিক লোকদের লক্ষ্য করে হামলা পাকিস্তান সহ্য করবে না। তিনি আফগানিস্তানকে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেবার জন্য নিন্দা করেছেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এই সংঘাতের প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশি প্রবাসীরা এই সংঘাতের কারণে সুরক্ষা সংকটের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে, যারা পাকিস্তানে চাকরি করে বা ব্যবসা করছেন, তারা এই সংঘাতের কারণে আর্থিক ও সুরক্ষা সমস্যায় ভুগতে পারেন।
এই সংঘাতের পেছনে রয়েছে পাকিস্তানের সামরিক অভিযান। গত মাসে পাকিস্তান আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল বলে দাবি করেছিল। পাকিস্তান দাবি করেছে, এই অভিযান ছিল সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে। তবে তালেবান এ দাবি অস্বীকার করেছে।
আফগানিস্তানে অবস্থিত জাতিসংঘের মিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি থেকে এ সংঘর্ষে আফগানিস্তানে ৭৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং ১৯৩ জন আহত হয়েছেন। এই সংঘর্ষের ফলে অঞ্চলটির নিরাপত্তা অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে।
এই সংঘাতের ফলে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্ক আরও খারাপ হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সংঘাতের ফলে অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা আরও ক্ষুন্ন হবেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এই সংঘাতের প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। তারা এই সংঘাতের কারণে সুরক্ষা এবং আর্থিক সমস্যায় ভুগতে পারেন।
মন্তব্য করুন