আমেরিকার রাজনীতিতে নতুন করে জটিলতা দেখা দিয়েছে। সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতারা অভিবাসন ও শুল্ক প্রহরী সংস্থা (আইসিই) সংস্কারের দাবিতে অনড় রয়েছেন। এর ফলে দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অর্থ বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা আরও জটিল হচ্ছে। সেনেট সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার বলেন, “আইসিইকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে এবং সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। এর জন্য সংস্কার প্রয়োজন।” প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সোমবার রিপাবলিকান নেতাদের আলোচনার পর মঙ্গলবার তাঁরা ডেমোক্র্যাটদের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠান। কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা সেই প্রস্তাবকে অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
একটি হত্যাকাণ্ডের পর আইসিই কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জানুয়ারিতে মিনেসোটাতে দুই ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত ফেডারেল এজেন্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ডেমোক্র্যাটরা আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। শুমার বলেন, রিপাবলিকানদের প্রস্তাবে কোনও সংস্কারের উল্লেখ নেই। তিনি জানান, আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই তাঁরা পাল্টা প্রস্তাব পাঠাবেন। তাঁর কথায়, “এই প্রস্তাবে উল্লেখযোগ্য সংস্কার থাকবে।”
রিপাবলিকান নেতারা জানান, তাঁদের প্রস্তাবে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধীনস্থ বিভিন্ন সংস্থার ৯৪ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ থাকবে। তবে আইসিই-এর অভিবাসন বিতাড়ন বিভাগের জন্য ৫.৫ বিলিয়ন ডলার আটকে রাখা হবে। এদিকে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধিকাংশ সংস্থা চালু রাখতে ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল এক্ট’ অনুযায়ী আইসিই ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ পেয়েছে। সিনেট সংখ্যাগুরু নেতা জন থুন জানান, সংস্কারের সঙ্গে অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি জড়িত। তিনি বলেন, “যদি অর্থ বরাদ্দ না থাকে, তাহলে সংস্কারের দাবি কীভাবে মানা হবে তা বোঝা যাচ্ছে না।”
ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা প্যাটি মারে জানান, তাঁরা আইসিই সংস্কারের জন্য সংযত প্রস্তাব রেখেছেন। তাঁর কথায়, “সংস্কার আইনে পরিণত হতে হবে।” গত সপ্তাহে সিনেটরদের একটি দল সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা টম হোমানের সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করেছেন। মারে বলেন, শ্বেতভবনের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক উৎপাদনশীল হলেও প্রেসিডেন্টের সামাজিক মাধ্যমের নতুন নতুন দাবি আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি বলেন, “রিপাবলিকানদের মধ্যেই ঐকমত্য নেই, তা সত্ত্বেও আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোমবার ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করে বলেন, তাঁরা পূর্ববর্তী চুক্তি ভঙ্গ করেছেন। তিনি জানান, ডেমোক্র্যাটদের যে কোনও চুক্তিতেই তিনি সন্তুষ্ট নন। রিপাবলিকানরা অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি ‘সেভ অ্যামেরিকা অ্যাক্ট’ নামে একটি নির্বাচনী বিধিমালা সংস্কার আইনকেও অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছেন। তবে এই আইনটি বাজেট সমন্বয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাস করতে গেলে আইনের নির্দিষ্ট কিছু অংশ অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কিত বিধিনিষেধ মানতে হবে। ইউটাহ সিনেটর মাইক লি বলেন, “সেভ অ্যামেরিকা অ্যাক্টকে বাজেট সমন্বয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাস করানো সম্ভব নয়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই জটিলতা থেকে বেরিয়ে আসতে দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। কারণ সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন স্থগিত থাকায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে। সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, “এই সমস্যার অবসান হওয়া উচিত।” তবে ডেমোক্র্যাটরা তাঁদের দাবি থেকে সরতে রাজি নন। ফলে আলোচনার গতি আরও ধীর হয়ে পড়েছে।
মন্তব্য করুন